মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০২:৫৩ এএম
যশোর সদর উপজেলার দৌলতদিহি গ্রামে অনলাইন জুয়া আর পর্নোগ্রাফির নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা এক ছেলের অনবরত শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত নিজ সন্তানের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক বৃদ্ধ পিতা।
অভিযুক্ত ছেলের নাম আজিম উদ্দিন। জুয়ার টাকার জন্য প্রতিনিয়ত ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও মাকে মারধরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দিনমজুর বাবা তরিকুল ইসলাম। রোববার (২ আগস্ট) যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি এই মামলা দায়ের করেন।
বিচারের প্রথম দিনই অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারক সঞ্জয় পাল মামলাটি আমলে নেন এবং অভিযুক্ত আজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
মামলার পিতা তরিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি পেশায় একজন দিনমজুর। ছেলে আজিম কোনো কাজকর্ম করে না। কিছুদিন ধরে তার আচরণে অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা যায়। সারাদিন ঘরের দরজা বন্ধ করে মোবাইলে মগ্ন থাকতো সে। পরে তরিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী বিউটি বেগম নিশ্চিত হন যে, আজিম মারাত্মকভাবে অনলাইন জুয়া ও পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছে।
জুয়ার পেছনে ওড়ানোর খরচের জন্য আজিম প্রতিদিন বাবা-মায়ের কাছে ১ হাজার টাকা করে দাবি করতে শুরু করে। অভাবের সংসারে দিনমজুর বাবার পক্ষে সেই টাকা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়লে সে ঘরে সহিংস তাণ্ডব চালাতে থাকে।
সবশেষ ১৫ জুলাই বিকেলে আজিম পুনরায় টাকা দাবি করলে তার পিতা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, কোথায় পাব টাকা? তুই তো আমাদের জীবন শেষ করে দিলি।
এ কথা শোনামাত্র আজিম মারাত্মক ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় মা বিউটি বেগম বাধা দিতে এলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে সে। একপর্যায়ে ঘরে গচ্ছিত রাখা কষ্টার্জিত ৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে আজিম।
ঘটনার পর স্থানীয় সামাজিক বিচারে বিষয়টির কোনো সমাধান না পেয়ে এবং ছেলের নির্যাতন চরম মাত্রায় পৌঁছালে বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয় নেন এই বৃদ্ধ পিতা।
আরটিভি/এসএস