মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৬:৪০ পিএম
কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে পাচারের উদ্দেশ্যে দুই রোহিঙ্গা মাদক কারবারিকে আটকের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মলত্যাগ করিয়ে ধাপে ধাপে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা বের করা হয়। পরে সেগুলো জব্দ করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন এসব তথ্য জানান।
আটক দুজন হলেন- কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২-এর বাসিন্দা মো. শাহ আলম (৪৯) ও মো. রফি উল্লাহ (৩৫)।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, কক্সবাজারের উখিয়া থেকে গাড়িতে করে ইয়াবার একটি বড় চালান চট্টগ্রামে নেওয়া হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ সরকারহাট এলাকায় চট্টগ্রামমুখী সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পেটের ভেতরে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে এক্স-রে পরীক্ষায় পেটের ভেতরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার প্যাকেট থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এরপর চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মলত্যাগের মাধ্যমে কয়েক ধাপে মো. শাহ আলমের পেট থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো ৯০টি এবং মো. রফি উল্লাহর পেট থেকে একইভাবে আরও ৯০টি প্যাকেট বের করা হয়। মোট ১৮০টি প্যাকেট খুলে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৭ লাখ টাকা।
র্যাব জানায়, ইয়াবাগুলো স্বচ্ছ পলিপ্রপিলিন ব্যাগে ভরে কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো হয়েছিল, যাতে বহনের সময় সহজে শনাক্ত করা না যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব ইয়াবা চট্টগ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
আরটিভি/এমএইচজে