ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পাওনা টাকা নিতে ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডাকেন দোলনা, অতঃপর...

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
গ্রেপ্তার মিনারুল ইসলাম জনি। ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের বড়াইগ্রামে এক টাইলস ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, মারধর, ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে মিনারুল ইসলাম জনি (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার মিনারুল ইসলাম জনি উপজেলার মাঝগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হাসান আলী (২৮) উপজেলার হারোয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি বনপাড়া বাজারে টাইলস ও স্যানিটারি সামগ্রীর ব্যবসা করেন।

জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে মাঝগ্রাম বউবাজার এলাকার দোলনা খাতুন (৪০) হাসান আলীর দোকান থেকে ১৯ হাজার টাকার টাইলস বাকিতে নেন। পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় গত ১৯ জুলাই হাসান পুনরায় টাকা চাইলে দোলনা তাকে বাড়িতে গিয়ে টাকা নিয়ে আসতে বলেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে হাসান দোলনার বাড়িতে গেলে তাকে একটি ঘরে বসানো হয়। পরে মিনারুল ইসলাম জনিসহ কয়েকজন যুবক সেখানে গিয়ে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে দোলনা খাতুনের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়।

পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২৬ হাজার ৯৯০ টাকা এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম কার্ড ব্যবহার করে আরও ২৭ হাজার টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া দোকানের কর্মচারীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলিয়ে দিয়ে আরও ৬০ হাজার টাকার টাইলস নেওয়া এবং একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, প্রায় ১১ ঘণ্টা আটকে রাখার পর রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরদিন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আরও টাকা দাবি করা হলে হাসান আলী দোলনা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে ৯০ হাজার টাকা দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মোটরসাইকেল ফেরত চাইলে আরও টাকা দাবি করা হয়। রোববার রাতে অবশিষ্ট টাকা নিতে মিনারুল ইসলাম জনি ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গেলে হাসান আলী কৌশলে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় হাসান আলী বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন। মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে সেই অটোরিকশাচালকই, বিস্তারিত জানাল পুলিশ
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে সেই অটোরিকশাচালকই, বিস্তারিত জানাল পুলিশ
বাসচাপায় একসঙ্গে প্রাণ গেল শাশুড়ি-পুত্রবধূর
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাসচাপায় শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ৬টার দিকে ঢাকা-বকশীগঞ্জ মহাসড়কের নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ ও এর হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া গ্রামের উফেজা বেগম (৬৫) ও তার পুত্রবধূ ফরিদা বেগম (৪০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শান্তি পরিবহন নামের একটি বাস বকশীগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরপাড়া হয়ে রৌমারীর দিকে যাচ্ছিল। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাশুড়ি উফেজা বেগম ও তার পুত্রবধূ ফরিদা বেগম। সকাল ৬টার দিকে বাসটি ঠাকুরপাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের হেলপার মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি জব্দ করে। শাশুড়ি ও পুত্রবধূর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকবুল হোসেন জানান, বাসটি জব্দ ও এর হেলপার মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আরটিভি/টিআর
সাতসকালে বাসচাপায় প্রাণ গেল শাশুড়ি-পুত্রবধূর
শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল ও সনদ অর্জনের পেছনে ছুটলেই চলবে না; বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জের মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, বরং একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও মূল্যবোধ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই যথেষ্ট নয়; তোমাদের সৎ, দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষা যেন কেবল সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা যেন মানুষের চিন্তাশক্তি, বিবেক ও দায়িত্ববোধকে সমৃদ্ধ করে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বে নিজেদের যোগ্য মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। তোমাদের বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সততা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. খাইরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম আলী। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সমন্বয়কারী রহমত আরা লস্করার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি শাহজাহান বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক রিপন আনসারী এবং জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মিনহাজ মিয়া। প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে আয়োজিত এ নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নাচ, গান, ফ্যাশন শো ও আলোচনা পর্বের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের
বরিশালের বাকেরগঞ্জে এক বিবাহিত নারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় সাত মাস ধরে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে একটি মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ তুহিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ওই ইমাম ও নারীকে আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। তবে কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ তুহিন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তুহিনের সঙ্গে পাশের গ্রামের এক নারীর বিয়ে হয়। পরে পটুয়াখালীর মজিদপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করার সময় ওই মসজিদের পাশের বাড়ির এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর বড় ভাইয়ের অভিযোগ, এর আগে মজিদপুর এলাকার একটি মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করার সময় তুহিন ওই মসজিদের পাশের বাড়ির বিবাহিত নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই নারী তার স্বামীর সংসার ছেড়ে তুহিনের সঙ্গে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ওই নারীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পরিবারের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাত মাস আগে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে আসেন এবং এক মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর তারা স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে তুহিনের প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ওই ভাড়া বাসায় গিয়ে দুজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, স্থানীয়রা মসজিদের ইমাম ও এক নারীকে আটক করার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। পরে কলাপাড়া থেকে আসা ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। উভয় পক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ তুহিন দাবি করেন, নারীর সঙ্গে তার মৌখিকভাবে বিয়ে হয়েছে। তবে এ সময় তিনি বিয়ের কোনো কাবিননামা বা নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আরটিভি/টিআর
অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের
ধস্তাধস্তির পর ধানক্ষেতেই তাজমিনকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৩) গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সিএনজিচালক সুমন। ধানক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার পর ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।  শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাজমিনের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করেও ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির আলামত মিলেছে। পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সুমন একাই তাজমিনকে ধানখেতে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। হত্যার কারণও অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) গভীর রাতে বাস থেকে নেমে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে কিশোরীকে একা পেয়ে সুমন শহরের দিকে না গিয়ে উল্টো পথে অটোরিকশা চালাতে থাকেন। বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে তিনি লালমাই উপজেলার জগতপুরের একটি ধানক্ষেতের দিকে যান। বিষয়টি বুঝতে পেরে চলন্ত অটোরিকশা থেকেই রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানায় তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তার বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি। পরে জগতপুরের ধানক্ষেতে পৌঁছালে আত্মরক্ষার জন্য পালানোর চেষ্টা করে তাজমিন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে অটোরিকশাটিও পড়ে ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে সুমনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে উপস্থিত হয়নি। তার বাবা আব্দুল আলিম একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে তারা কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামে। এর আগে গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে বুধবার রাতে বাসায় ফেরার পথে সিএনজিচালকের অটোরিকশায় ওঠার পর এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয় সে। আরটিভি/এসকে
ধস্তাধস্তির পর ধানক্ষেতেই তাজমিনকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন
আরও পড়ুন
বিয়ের চার মাস পর জানলেন ‘স্ত্রী’ একজন পুরুষ
মেয়ে সেজে ইতালি প্রবাসীকে বিয়ে, এর পর যা হলো
বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে ব্যাগ উধাও, কাঁদছেন জার্মান পর্যটক
লোহার বালতি দিয়ে শাশুড়ির মাথায় আঘাত, অতঃপর...