images

দেশজুড়ে

ঘেরা-বেড়ায় বন্ধ শতবর্ষের পথ, অবরুদ্ধ তিন পরিবার

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ , ০২:৩৬ পিএম

খুলনার পাইকগাছায় প্রায় শত বছর ধরে ব্যবহৃত চলাচলের একটি পথ ঘেরা-বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোক্তার দপ্তরী নামে একজনের বিরুদ্ধে। পথটি নিজেদের জমির অংশ দাবি করে ঘেরা-বেড়া দেওয়ায় তিনটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটিও বাড়িতে নিতে পারছেন না তারা।

উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের ঘোষাল গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মিস্ত্রি ও তার পূর্বপুরুষেরা। এছাড়া এ এলাকার সাধারণ লোকজনও এ পথ দিয়ে শত বছর আগে থেকে চলাচল করে আসছেন বলে এলাকাবাসী জানান।

পথের পূর্ব মাথার কিছু অংশ চেঁচুয়া গ্রামের নুরুল হক মিস্ত্রিদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের কাছ থেকে কয়েক মাস আগে চেঁচুয়া গ্রামের আছের দপ্তরীর ছেলে মোক্তার দপ্তরী ৮ শতক জমি কেনেন। পরে গত ২৩ জুলাই পথটি তাদের কেনা জমি দাবি করে ঘেরা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন। ফলে বিশ্বজিৎ মিস্ত্রি, বিষ্ণপদ মিস্ত্রি ও অসীমা মিস্ত্রিদের যাতায়াতের পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে তারা এখন পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার কয়েকদিন পরে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক রেজাউল নায়েব তার পুকুরের ধার দিয়ে এক হাত জায়গা ছেড়ে দেওয়ায় সেখান দিয়ে চলাচল করছেন।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

গৃহহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই এখন ‘ভূতের বাড়ি’ 

ভুক্তভোগী বিষ্ণুপদ বলেন, এই পথ দিয়েই আমাদের পরিবারের মানুষ প্রায় ১০০ বছর ধরে চলাচল করে আসছেন। এখন ঘেরা-বেড়া দেওয়ায় আমরা বাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছি না, আবার ভ্যান নিয়েও বাড়িতে ঢুকতে পারছি না। ভ্যান চালিয়েই আমাদের সংসার চলে। পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের আয়-রোজগারও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বিশ্বজিত মিস্ত্রী জানান, চলাচলের পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় মালামাল বাড়িতে আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো পরিবারের সদস্য অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত বাড়ি থেকে বের করে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এমনকি রাস্তার কারণে তার বিয়ে ভেঙে গেছে।

সমস্যার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশ সুপারের দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি তারা।

এ বিষয়ে মোক্তার দপ্তরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার খরিদ করা জমিতে পথ থাকবে লোকজন চলাচল করবে তা হবে না। পথ নিতে গেলে পথের সমান জমি দিতে হবে।

ইউপি সদস্য আবু হাসান বলেন, পথ ঘেরা দেওয়ার বিষয়টি জানার পরে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। মোক্তার দপ্তরীকে পথ উন্মুক্ত করার কথা বল্লেও এখনো পথটি উন্মুক্ত করেনি। পরে ইউএনও বরাবর অভিযোগ হলে বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ প্রেরণ করেন। সেখানেও তিনি হাজির হননি। তিনি কোনো আইন মানছেন না। পথ বন্ধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, পথটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির অংশ কি না, নাকি দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের পথ, তা প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হোক। একই সঙ্গে তাদের স্বাভাবিক চলাচলের পথটি খুলে দিয়ে দ্রুত দুর্ভোগের অবসান করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরটিভি/এমএইচজে