ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

গৃহহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই এখন ‘ভূতের বাড়ি’ 

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
ছবি: আরটিভি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দেওয়া ৮৩০ ঘরের মধ্যে অধিকাংশ ঘরেই উপকারভোগীর বসবাস নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব উপকারভোগী পরিবারগুলোর আশ্রয়ণের নির্দিষ্ট বরাদ্দকৃত ঘরে ঝুলছে তালা।

উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো সরজমিনে গেলে এমনটাই চোখে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করে ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় উপকারভোগীদের ঘরে তালা ঝুলছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখালি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬৬টি ঘরের মধ্যে ৮টি ঘরেই তালা ঝুলছে। একই ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৩৩টি ঘর থাকলেও ১২টি ঘরে তালা ঝুলছে। এছাড়া অন্য ইউনিয়নগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

পরিত্যক্ত ঘরে অনেককে আবার পশু (ছাগল) পালন করতেও দেখা গেছে। কিছু ঘর অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের তালাবদ্ধ কয়েকটি ঘরের নাম্বার হলো- ১, ২, ৬, ৯, ১৩, ১৫, ৫১ ও ৬১ এবং একই ইউনিয়নের গোলবুনিয়া আশ্রায়ণ প্রকল্পের তালাবদ্ধ ঘর নং- ৬, ১০, ১৫, ১৩, ২০, ২১, ২৩, ২৬, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৩৩।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে ১৮১ জন, দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০০ জন, তৃতীয় পর্যায়ে ২৯৫ জন, চতুর্থ পর্যায়ে ১৫৪ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলোর মধ্যে ঘরের চাবি, কবুলিয়ত দলিল, নামজারি খতিয়ান, ডিসিআরসহ যাবতীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করে উপজেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ ৭১ হাজার, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ লাখ ৯১ হাজার, তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ে প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘর নির্মাণ করা হয়।

আশ্রায়ণের একাধিক বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ প্রকল্পের অনেক ঘর রয়েছে যেখানে বুঝে পাওয়ার এক বছরের বেশি সময়েও একদিনও কেউ বসবাস করেননি। দীর্ঘদিন ধরেই এসব ঘরে তালা ঝুলছে। অনেক পরিবার রয়েছে ঘর বুঝে পাওয়ার পর কয়েকদিন থাকলেও বর্তমানে নিজ গ্রামে বসবাস করছেন। এরকম আরও অনেক পরিবার রয়েছেন যারা ঘর পাওয়ার পরে চলে গেছেন। আশ্রয়ণের এসব ঘরে মানুষজন বসবাস না করায় অযত্নে আর অবহেলায় পড়ে রয়েছে ঘরগুলো। পরিত্যক্ত অনেক ঘরে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া উপজেলার পাঁচশতকুড়া টিকিকাটা এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের সুফিয়া বেগমের ঘরটি আছে তালাবদ্ধ অবস্থায়। স্থানীয় লোকজন ঘরটিকে গরুর গোয়াল হিসেবে ব্যবহার কর‌ছে। ঘরটিতে কোনো যাতায়াতের পথ নেই। স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩-৪ বছর যাবৎ এখানে কেউ বসবাস করছেন না। ঘরটির ভেতরে মাদকের আড্ডা রয়েছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি আসলে ভালো ছিল। ঘরগুলো দিন দিন সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের ভেতরে রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা খবর নিয়ে যতটুকু জানতে পেরেছি অনেক ঘরে লোক থাকেন না। সার্ভে করে ঘরগুলো চিহ্নিত করে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বী বলেন, নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি কয়েকদিন হলো। আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। প্রকল্পগুলোতে কোনো সমস্যা থাকলে সেগুলো সমাধান করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ ব্যাপারে পিরোজপুর ৩- আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল বলেন, যে ঘরগুলো খালি রয়েছে সে ব্যাপারে সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যদি কোনো নির্দেশনা আসে কাজ করব। আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাদকসেবী থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঠোঁট-তালুকাটা শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে শাহরাস্তিতে মানবিক উদ্যোগ
একটি শিশুর মুখে হাসি, একটি পরিবারের বুকে স্বস্তি— এই প্রত্যাশাকে সামনে রেখে ঠোঁট ও তালুকাটা শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক বাজারে অবস্থিত মেডিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টার।
ঠোঁট-তালুকাটা শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে শাহরাস্তিতে মানবিক উদ্যোগ
শেরপুরের ২ উপজেলায় পাখি শিকার বন্ধে অভিযান
পাখি শিকার বন্ধে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ শেরপুর, শেরপুর বার্ড ক্লাব এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন এর উদ্যোগে সদর ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
শেরপুরের ২ উপজেলায় পাখি শিকার বন্ধে অভিযান
হারিয়ে যাওয়ার ৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে ভাইদের কাছে ফিরলেন পরী বেগম
দীর্ঘ ৫০ বছরের বিচ্ছেদ। শৈশবে হারিয়ে যাওয়া, মানব পাচারকারী চক্রের কবলে পড়ে ভারত হয়ে পাকিস্তানে চলে যাওয়া। এরপর কেটে গেছে জীবনের পাঁচটি দশক।
হারিয়ে যাওয়ার ৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে ভাইদের কাছে ফিরলেন পরী বেগম
খুলনার হত্যা মামলার আসামি চট্টগ্রামে ধরা
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 
খুলনার হত্যা মামলার আসামি চট্টগ্রামে ধরা
অভিনেতা সমু চৌধুরীকে বেধড়ক পিটুনি, যা জানা গেল
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও নাট্যশিল্পী সমু চৌধুরী। ময়লা-আবর্জনা ফেলা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাকে লাঠিপেটা করে রক্তাক্ত জখম করেছে। গুরুতর আঘাতের কারণে তার মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে।
অভিনেতা সমু চৌধুরীকে বেধড়ক পিটুনি, যা জানা গেল
আরও পড়ুন
ট্রলি ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই সামনে এলো ‘চরম সত্য’
পিরোজপুরে প্রবাসীর কেনা জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ
বাড়তি দামেও মিলছে না গ্যাস, খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতা
ডাক্তার নেই, নদী পেরিয়ে সদরে যাওয়ার আগেই মরে ‘আদরের পশু’