images

অর্থনীতি

আগে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন লাগে ১০ লাখ: আজম জে চৌধুরী

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:৩৩ পিএম

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এক ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি প্রশাসনের তৃণমূল পর্যায়ে ঘুষের মাত্রা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

তিনি অভিযোগ করেন যে, আগে যেখানে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দিতে হতো, বর্তমানে সেই অংক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ টাকায়। মাঠ পর্যায়ে কোনো পরিবর্তন না আসায় এই পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

১০ লাখ টন পণ্য আটকে ভাসমান গুদাম তৈরি, নেপথ্যে বড় সিন্ডিকেট

আজম জে চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, এই সরকার মূলত এনজিও স্টাইলে দেশ চালানোর চেষ্টা করছে এবং ব্যবসায়ীদের কোনো মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি বিশেষ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও ভূমি অফিসগুলোতে হয়রানির কথা উল্লেখ করে জানান যে, জমির মিউটেশনসহ অন্যান্য কাজে এখন এলআর ফান্ডের নামে আকাশচুম্বী অর্থ দাবি করা হচ্ছে। সরকারের সংস্কার কর্মসূচিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি যদি না কমে এবং ঘুষের হার যদি বহুগুণ বেড়ে যায়, তবে তাকে কি আদৌ সংস্কার বলা যায়? মাইক্রো লেভেলে অর্থাৎ মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতির এই ভয়াবহতা বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করছে বলেও তিনি মনে করেন।

সেমিনারে তিনি বন্দর ও কাস্টমসের অব্যবস্থাপনা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। তার মতে, কোনো পণ্য আমদানির পর তা এক মাসের বেশি সময় বন্দরে আটকে থাকা এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ব্যবসার গতি কমিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন যে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি, কিন্তু ‘এনজিওদের সরকার’ তা করছে না। 

জ্বালানি খাতের সংকট ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবের কথাও তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের উপস্থিতিতে আজম জে চৌধুরীর এই সরাসরি অভিযোগ এখন দেশের ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরটিভি/এআর