মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬ , ০৪:১৯ পিএম
টানা সাত মাস ধরে নেতিবাচক প্রবণতায় থাকা বাংলাদেশের রপ্তানি খাত নতুন করে চাপে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকটে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে চাহিদা কমার পর এবার উপসাগরীয় অস্থিরতা রপ্তানিতে আরেক দফা ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরব দেশগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির প্রায় ২ শতাংশ। তবে খাতভিত্তিক গুরুত্ব বেশি—এর ৬০ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক, বাকিটা শাকসবজি ও কৃষিপণ্য। ফলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন শিল্পপণ্য ও পচনশীল উভয় রপ্তানিতেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রপ্তানিকারকদের প্রধান উদ্বেগ হরমুজ প্রণালি, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর। সংঘাত বাড়লে বা নৌ চলাচলে বাধা এলে চালান বিলম্বের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয়, বীমা ও ফ্রেইট চার্জ বেড়ে যেতে পারে। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়; যেকোনো বিঘ্নই বৈশ্বিক তেলের বাজারে দামের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
একইভাবে উপসাগরীয় আকাশসীমা ও দুবাই ট্রানজিট হাবের ওপর নির্ভরশীল দীর্ঘপাল্লার রুটগুলোতেও প্রভাব পড়ছে। কিছু ফ্লাইট স্থগিত বা পুনর্নির্ধারণ করায় বিকল্প রুটে জ্বালানি ব্যয় ও লজিস্টিক জটিলতা বাড়ছে।
পচনশীল পণ্যে তাৎক্ষণিক ক্ষতি
মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ইতোমধ্যে ক্ষতি শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের গ্রিন ওয়ার্ল্ড ইমপ্যাক্টের প্রায় এক টন সবজি দুবাই পাঠানো না যাওয়ায় নষ্ট হয়ে ১,২০০ ডলারের ক্ষতি হয়েছে। রপ্তানিকারকেরা বলছেন, ফ্লাইট অনিশ্চিত থাকায় নতুন চালানও বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল সতর্ক করে বলেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে কৃষিপণ্য ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপে যাওয়া পণ্যের ট্রানজিট ব্যাহত হবে।
তৈরি পোশাকে অনিশ্চয়তা
দুবাই এয়ারপোর্টকে ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যগামী কিছু পোশাক চালান আটকে আছে বলে জানিয়েছেন স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম। বিকল্প হিসেবে হংকং বা অন্য রুট ব্যবহার করলে খরচ বাড়বে।
বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানিকারক একটি বৈশ্বিক রিটেইলারও দুবাই হয়ে এয়ারকার্গো পাঠাতে না পারায় সমস্যায় পড়েছে। তারা বিকল্প হাব বিবেচনা করছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, সৌদি আরব ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্য গন্তব্যে কার্গো পাঠানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে বিজিএমইএ বলছে, সমুদ্রপথে এখনো সমস্যা না থাকলেও এয়ার কার্গো বন্ধ থাকলে সাপ্লাই চেইনে বড় ক্ষতি হতে পারে।
শিপিং খাতে সম্ভাব্য জট
শিপিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো ট্রানশিপমেন্ট হাবে কনটেইনার জট তৈরি হতে পারে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ধীর হয়ে পরিবহন ব্যয় বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা ইতোমধ্যেই মন্থর থাকায় এই নতুন সংকট বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিতে বহুগুণ প্রভাব ফেলতে পারে।
আরটিভি/এআর