মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:১৩ পিএম
বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সামরিক সংঘাত ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ লগ্নি হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল)আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার স্পট সোনা দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৬৫৫ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। দিনের শুরুতে অবশ্য এই দাম প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল তবে পরবর্তী সময়ে তা কিছুটা স্থিতিশীল হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সোনার ফিউচারের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ সামান্য হ্রাস পেয়ে ৪,৬৮০ দশমিক ৫০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তা সোনার দাম বৃদ্ধিতে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে ইরানের কৌশলগত অবকাঠামো ও জ্বালানি কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করেছে। যখনই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয় তখন বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকে অর্থ সরিয়ে সোনা কেনায় আগ্রহী হন।
তবে সোনার এই দাম বৃদ্ধি কিছুটা সীমিত রেখেছে শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং তেলের উচ্চমূল্য। সাধারণত ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার ধারকদের জন্য সোনা কেনা কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে যা এর চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া তেলের দাম বাড়লে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয় যা পরোক্ষভাবে সোনার বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের প্রধান মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি অবরোধ এবং ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্রগুলোতে হামলার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যদি এই সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী বা ভয়াবহ রূপ নেয় তবে সোনার দাম ৪,৭০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন।
সব মিলিয়ে সোনার বাজারের পরবর্তী গতিপথ পুরোপুরি নির্ভর করছে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতির ওপর। একদিকে মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং অন্যদিকে যুদ্ধের দামামা— এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে।
আরটিভি/এআর