রোববার, ২৪ মে ২০২৬ , ১২:২৫ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের মসলার বাজারে এবার ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির মাংস রান্না ও সংরক্ষণকে ঘিরে জিরা, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, মরিচ, ধনিয়া, জয়ফল, জয়ত্রী ও তেজপাতার বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে মানভেদে জিরা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়, দারুচিনি ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায়, লবঙ্গ প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় এবং এলাচ ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোলমরিচ, ধনিয়ার গুঁড়া ও শুকনা মরিচের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার, ডলার মূল্য এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে কিছু পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কমও রয়েছে। যেমন জিরার দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে এবং এলাচের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে, বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে ভেজাল মসলা। খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল মসলা জব্দ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হলুদের গুঁড়ায় ক্ষতিকর রং, মরিচে ইটের গুঁড়া, ধনিয়ায় কাঠের গুঁড়া এবং জিরায় নিম্নমানের উপাদান মেশানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ভেজাল উপাদান দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি আরও বেশি বিপজ্জনক।
অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি বা ভেজাল মসলা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত আমদানি ও বাজার তদারকি থাকলে ঈদের আগে মসলার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে, তবে ভোক্তাদেরও সচেতনভাবে কেনাকাটা করতে হবে।
সূত্র: বাসস
আরটিভি/জেএমএ