images

অর্থনীতি

৫ বছরে ধাপে ধাপে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব 

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ০৩:৫৪ পিএম

আগামী ৫ বছরের জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত— ৫ অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে সব পর্যায়ের ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় এ প্রস্তাব রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  

সংসদে রাজস্ব সংক্রান্ত পরিকল্পনা উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, বাজেটের আকার ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়, যার সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৮৬ শতাংশ আহরণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বিভিন্ন বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও আমাদের রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রাজস্ব আহরণ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রধান উদ্দেশ্য হলেও দেশে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসার ক্ষেত্র বৃদ্ধি, দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও প্রতিরক্ষণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভূমিকা অগ্রগণ্য। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য মধ্যমেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ করা এবং দীর্ঘমেয়াদে ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করা। এজন্য প্রয়োজন একটি ন্যায্য, প্রযুক্তিনির্ভর, সর্বজনীন ও পূর্বানুমানযোগ্য রাজস্ব কাঠামো, যা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করবে এবং বিনিয়োগ-উৎপাদন-কর্মসংস্থান-ভোগ-কর চক্রকে আরও গতিশীল করবে। 

এরপর তিনি মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতা বিবেচনায় আগামী ৫ বছরের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা প্রস্তাব করেন। 

সেখানে ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বিদ্যমান ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখেন অর্থমন্ত্রী। এরপর ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে এই করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখেন তিনি। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা দাঁড়াবে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। 

বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্য আলাদা সুবিধার প্রস্তাব রেখেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেই অনুযায়ী, নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের সিনিয়র সিটিজেনরা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা আয় পর্যন্ত শূন্য করের আওতাভুক্ত থাকবেন ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে। ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা থাকবে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা থাকবে ৫ লাখ টাকা।

তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা এবং প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য এই করমুক্ত আয়সীমা আরও বেশি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে এবারের বাজেটে। প্রস্তাবনা অন্যযায়ী, ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা আয় পর্যন্ত কোনও কর দিতে হবে না এই শ্রেণিভুক্তদের। ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা থাকবে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা থাকবে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন
vat-tax

নতুন বাজেটে কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়াতে সরকারের বড় পরিকল্পনা

এছাড়া, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য এই করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে। পরে ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা থাকবে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা থাকবে ৬ লাখ টাকা।

এছাড়া, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবক প্রত্যেক প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য ৫০ হাজার টাকা বেশি হারে করমুক্ত আয়সীমা ভোগ করবেন। 

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

আরটিভি/এসএইচএম