নতুন বাজেটে কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়াতে সরকারের বড় পরিকল্পনা

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ০২:৫৮ পিএম


নতুন বাজেটে কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়াতে সরকারের বড় পরিকল্পনা
ছবি: আরটিভি

আসন্ন জাতীয় বাজেটে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের গতি বাড়াতে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। মূলত, কর ফাঁকি রোধ এবং নতুন করদাতাদের চিহ্নিত করে তাদেরকে করের আওতায় আনাকে এবার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে, এই কঠোরতা ও সংস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে করছাড়সহ বিশেষ কিছু সুবিধাও বহাল রাখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন এ বাজেটে কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব থাকবে। এর অংশ হিসেবে ব্যবসায়-সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব খোলা, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন বা বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হতে পারে।

জানা গেছে, সাধারণ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন দাখিল বাধ্যতামূলক করা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের মাধ্যমে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে এনবিআরের তথ্যভান্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা, ভূমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় এসব বিষয়ে ঘোষণা থাকছে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ক্ষুদ্র করভিত্তি ও কর ফাঁকির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে করভিত্তি সম্প্রসারণ এবং পদ্ধতিগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেবে এনবিআর। এসব বহুমুখী পদক্ষেপ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের করদাতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও টেকসই ভিত্তি পাবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, আগামী ৫ বছরের জন্য একটি পূর্বানুমানযোগ্য প্রগতিশীল কর কাঠামো ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী, যাতে করদাতারা ভবিষ্যতে তাদের করের বোঝা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে পারেন। ব্যক্তি এবং কোম্পানি উভয় ক্ষেত্রে ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত করহারের প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী। 

আরও পড়ুন

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে যাচ্ছে এবারের বাজেটের আকার। সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission