images

অর্থনীতি

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে টিআইএন সনদ দাখিলের প্রস্তাব, ছাড় পাবেন যারা

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ০৬:১৬ পিএম

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদ দাখিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী ও বিশেষ কিছু শ্রেণির হিসাবধারীদের জন্য এই নিয়মে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট ও নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট (সহজ শর্তে খোলা সুবিধাবঞ্চিতদের হিসাব) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক গেজেটের মাধ্যমে টিআইএন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে এখন থেকে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার সময় বাধ্যতামূলকভাবে টিআইএন সনদ জমা দিতে হবে।

এদিকে কর ফাঁকি রোধ ও রাজস্ব জাল বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও জোরদার করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেন্ট্রাল ডাটা ইন্টিগ্রেশন বা কেন্দ্রীয় তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে এনবিআর-এর জাতীয় তথ্যভাণ্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি), সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

নতুন বাজেটে নারীদের জন্য সুখবর

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট উত্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। 

বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

বিশাল এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

আরটিভি/এসআর