শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ , ১২:৪০ পিএম
খুচরা ঋণ বৃদ্ধি এবং সাধারণ গ্রাহকদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার জন্য ব্যক্তিগত ঋণের সর্বোচ্চ পরিশোধের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ভোক্তা ঋণ বাড়ার ক্ষেত্রে এত দিন বহাল থাকা একটি বড় ধরনের বিধিনিষেধও পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি সার্কুলার পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সংশোধিত নীতিমালার আওতায় ব্যাংকগুলো এখন থেকে তাদের সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি হারে ভোক্তা ঋণের পোর্টফোলিও বাড়াতে পারবে। এর আগে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে ভোক্তা ঋণের প্রবৃদ্ধি কোনোভাবেই বেশি হওয়ার আইনি অনুমতি ছিল না।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ঋণ পরিশোধের মেয়াদ এক লাফে তিন বছর বাড়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই গ্রাহকদের মাসিক কিস্তির (ইএমআই) পরিমাণ অনেক কমে আসবে। এতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবী ঋণগ্রহীতাদের জন্য ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া আরও বেশি সহজসাধ্য হবে। তবে তারা একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর এই উদ্যোগটি যদি ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করতে না পারে, তবে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাংকগুলোর ঋণঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার একটি বড় আশঙ্কাও রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রবৃদ্ধির এই সর্বোচ্চ সীমা বা ক্যাপ তুলে নেওয়ার ফলে ব্যাংকগুলো এখন তাদের ভোক্তা ঋণ ব্যবসা আরও বেশি সম্প্রসারণে উৎসাহিত হবে। এর ফলে বাজারে ব্যক্তিগত ও খুচরা ঋণের যে ক্রমবর্ধমান চাহিদা রয়েছে, তা সহজেই মেটানো সম্ভব হবে।
এর আগে দেশে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎচালিত গাড়ি কেনা উৎসাহিত করতে গত ৫ মে বিদ্যুৎচালিত ও হাইব্রিড গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ব্যক্তির ঋণ সীমা এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সে সময় বিদ্যুৎচালিত ও হাইব্রিড যানবাহন ক্রয়ে আগের সীমার চেয়ে ২০ লাখ টাকা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এই খাতে ঋণ-বিনিয়োগ অনুপাত করা হয় ৮০:২০ শতাংশ, যা আগে ছিল ৬০:৪০ শতাংশ।
আরটিভি/এআর