সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০২:৩৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার পর আবারও গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ এই তীব্র উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে বড় শঙ্কা তৈরি করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ১০ ডলার বা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৭৯ দশমিক ১১ মার্কিন ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৯৫ ডলার বা ৪ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছায়।
এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, রোববার (১২ জুলাই) তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, এর জবাবে তারা কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এখনো খোলা রয়েছে। তবে এর আগে ইরান জানিয়েছিল, অনুমোদন ছাড়া একটি কন্টেইনার জাহাজ নির্ধারিত পথের বাইরে চলাচল করায় সেটিতে হামলা চালানো হয়। এরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে। গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে জাহাজ চলাচলের এই সংখ্যা সর্বনিম্ন।
এদিকে নতুন করে এই পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ার পর গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ওই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং আরও ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে চলমান যুদ্ধের একটি স্থায়ী অবসান ঘটানো।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত তাদের মাসিক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ওই সমঝোতার পর জুন মাসে বৈশ্বিক বাজারে দৈনিক তেল সরবরাহ ৪১ লাখ ব্যারেল বেড়েছিল। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তা এখনো দৈনিক ৯৪ লাখ ব্যারেল কম।
অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপের (এএনজেড) বিশ্লেষকেরা বলেছেন, সপ্তাহান্তে দুই দেশের উত্তেজনা আবার নতুন করে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এমন আশা এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।
আরটিভি/এআর