images

অর্থনীতি

দেশে পেপ্যাল, পেওনিয়ারের মতো সেবা চালুর পথ খুলল

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ১০:০৩ এএম

বাংলাদেশে পেপ্যাল ও পেওনিয়ারের মতো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট ও অর্থ স্থানান্তর সেবা চালুর পথ উন্মুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালার আওতায় দেশের অনুমোদিত ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে আন্তঃসীমান্ত (ক্রস-বর্ডার) ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা চালু করতে পারবে।

বুধবার(২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আন্তর্জাতিক সেবামুখী বাণিজ্য সহজ করা, ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সহজ করার লক্ষ্যেই নতুন এই কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, সেবা চালুর জন্য প্রথমে দেশের অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে বিদেশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। এরপর নিজস্ব প্রযুক্তিগত অবকাঠামো প্রস্তুত, প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সংযোগ (ইন্টিগ্রেশন), মাস্টার ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) চালু এবং গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

এ ছাড়া মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, রিয়েল-টাইম লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং রিপোর্টিং ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

তবে নতুন সেবা চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে ধাপে ধাপে সেবা চালু হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট) সেবা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় ‘ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী কাঠামো’ চালু করা হয়েছে। এর আওতায় ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সেবা দিতে পারবে।

গ্রাহকদের জন্য ‘ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ)’ নামে ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর সুযোগ থাকবে। তবে এসব অ্যাকাউন্ট সরাসরি পরিচালিত হবে না; প্রতিটি ডিভিএ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ‘মাস্টার ডিভিএ’ বা সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্সাররা বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করতে পারবেন। ব্যক্তিগত, চিকিৎসা ও সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদিত কোটার আওতায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া অনলাইনে আন্তর্জাতিক কেনাকাটা বা বিভিন্ন ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করা যাবে।

সদস্যপদ ফি, তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত ব্যয়, ভিসা প্রসেসিং ফি এবং অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের অর্থ পরিশোধেও এই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করা যাবে। এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) এবং রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবের বিপরীতেও এ সুবিধা পাওয়া যাবে। ইআরকিউ হিসাবধারী প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যবসায়িক ব্যয়ের জন্য ডিভিএ ব্যবহার করতে পারবেন।

নতুন ব্যবস্থার ফলে ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে অর্জিত অর্থ আরও সহজে দেশে আনতে পারবেন বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি বাংলাদেশে আগত বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকরাও দেশের বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন।

আরও পড়ুন
Web-Image

জরুরি প্রয়োজনে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকেরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন

তবে সেবা চালুর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে তাদের কারিগরি সক্ষমতা, নিরাপত্তা অবকাঠামো এবং পরিচালন কাঠামোর বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে জমা দিয়ে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি), অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত সব বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং নিয়মিত লেনদেনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

আরটিভি/এসকে