জরুরি প্রয়োজনে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকেরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৯:১১ এএম


জরুরি প্রয়োজনে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকেরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন
ছবি: সংগৃহীত

একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা এখন নিজেদের চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা তুলতে পারবেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করতে যাওয়া পাঁচটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে। ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আমানতকারীরা শুধু নিজেদের চিকিৎসার খরচের জন্য টাকা তুলতে পারতেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং ভাই-বোনের চিকিৎসার জন্যও এই টাকা তোলা যাবে। এ ছাড়া অন্য যেকোনো জরুরি প্রয়োজনেও এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অনেক আমানতকারী চিকিৎসার বাইরেও পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে নিজেদের আমানতের টাকা ব্যবহারের সুযোগ চেয়েছিলেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই নীতিমালায় এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পরিচালনা পর্ষদের সভায় আমানতের মুনাফায় হেয়ারকাট বা কর্তনের ব্যবস্থা স্থগিত করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন আমানতকারীরা শরিয়াহভিত্তিক নিয়ম অনুযায়ী পুরো মুনাফা পাবেন।

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পাঁচটি ব্যাংকের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে। এরপর এসব ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক দলও প্রত্যাহার করা হবে।

আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক অনিয়ম ও বেপরোয়া ঋণ বিতরণের কারণে এই পাঁচটি ব্যাংক কার্যত ধসে পড়ে।

আরও পড়ুন

গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে এবং ধাপে ধাপে আমানতের টাকা পরিশোধের একটি পরিকল্পনা চালু করে।

একীভূত ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন (পেইড-আপ ক্যাপিটাল) ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ফান্ড থেকে প্রতিটি আমানতকারীকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। অবশিষ্ট আমানত বাংলাদেশ ব্যাংক পৃথক একটি কর্মসূচির মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিশোধ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় ৮ লাখ ২২ হাজারের বেশি আমানতকারীকে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, অর্থাৎ ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ ঋণের বিপরীতে যথাযথ জামানত ছিল।

একই সময়ে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission