শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ , ০৯:৪৮ এএম
দেশের বাজারে অস্বাভাবিক বেড়েছে সুগন্ধি চাল, পোলাওয়ের চালের দাম। এক মাসের ব্যবধানে মানভেদে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পোলাওয়ের চালের দাম ১৪০-১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০-২১০ টাকায় পৌঁছেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন দৃশের দেখা মিলে।
একই সময়ে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির ভালো মানের চিনিগুঁড়া চালের বস্তার দাম বেড়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। ব্যবসায়ীরা এর জন্য রপ্তানির অনুমতি, সরবরাহ সংকট ও উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করলেও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, কার্যকর বাজার তদারকির অভাব এবং ব্যবসায়ীদের সুযোগ নেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
চালের পাইকারেরা অভিযোগ করে বলেন, প্রবাসীদের কাছে চিনিগুড়া চালের বাড়তি চাহিদা থাকায় রপ্তানি চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে অনেকে অবৈধ মজুদও করছেন।
বাবুবাজারের সুগন্ধি চালের ব্যবসায়ী সিফাত সরকার বলেন, বর্তমানে ভালো মানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫০ কেজির বস্তা ১০ হাজার থেকে ১০ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চলতি বছর রপ্তানির পরিমাণ বাড়ায় দেশীয় বাজারে চালের সংকট তৈরি হয়েছে।পাশাপাশি ধানের ফলন কিছুটা কম হওয়া, কয়েকটি এলাকায় ফসলের ক্ষতি এবং আমদানির সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
তিনি বলেন, আগে নওগাঁসহ বিভিন্ন মোকাম থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই ট্রাকভর্তি সুগন্ধি চাল পাওয়া যেত। এখন চাল পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি এবং সরবরাহও পর্যাপ্ত নয়। তবে এ সংকট মূলত সুগন্ধি চালেই সীমাবদ্ধ। সিদ্ধ চালের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।
কারওয়ান বাজারের সম্রাট শেখ বলেন, বাজারে পোলাও চালের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। সরকার রপ্তানির সুযোগ করে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা দেশীয় বাজারের পরিবর্তে রপ্তানিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এক মাস আগেও যে চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, এখন সেটিই পাইকারি পর্যায়ে ২০২ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। মূলত রপ্তানি বন্ধ করা হলে দু-তিন দিনের মধ্যেই প্রতি কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে আসতে পারে। দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও রপ্তানির কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সুগন্ধি চালের দাম ২৫০ টাকা কেজিতেও পৌঁছাতে পারে।
এ বিষয়ে ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে চালের কোনো সংকট নেই। তবে ধারণা করছি, অতি মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
এদিকে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো- ইপিবির তথ্য মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে, দুই দফায় মোট ২৩ হাজার ৯৫৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/টিআর