শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ , ০১:১২ পিএম
আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। নাগালের বাইরে যাওয়ার উপক্রম ডিম-মুরগির দাম। সেইসঙ্গে আগের মতোই চড়া মাছ ও সবজির বাজার। সাপ্তাহিক বাজার করতে গিয়ে নাভিশ্বাস ক্রেতা সাধারণের।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে চোখে পড়েছে এমনই চিত্র। মাত্রাতিরিক্ত দাম শুনে বিক্রেতাদের সঙ্গে ঝাঁঝালো তর্কেও জড়াতে দেখা গেছে অনেক ক্রেতাকে। বাজার মনিটরিংয়ের জোর দাবি জানাচ্ছেন প্রায় সব ক্রেতা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের ডজন উঠে গেছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মুরগি বিক্রেতা মনসুর আহমেদ বলেন, বাজারে মুরগির চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। সোনালি মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আজ প্রতি কেজি ২০০ টাকায় ব্রয়লার এবং ৩৩০ টাকায় সোনালি মুরগি বিক্রি করছি। বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় দামে তেমন ওঠানামা নেই।
কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বেড়েছে মাছের দাম। প্রতি কেজি চাষের জীবিত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়, তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। আর মানভেদে চিংড়ির কেজি এখন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা। এছাড়া, ভেটকির কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেলের কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম মাছের কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কইয়ের কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কইয়ের কেজি ৩০০ টাকা, পোয়ার কেজি ২৬০ টাকা এবং শোলের কেজি ৭০০ টাকা।
সেইসঙ্গে আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।
এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুর টাউনহলের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, আজকে মাছের দাম আগের মতোই। কিছু মাছের দাম সব সময় বেশি থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হচ্ছে। সেগুলোর দাম সব সময় বেশি। তবে পুকুরে চাষের মাছের দামও দিন দিন বাড়ছে। আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়, এ জন্য বিক্রিও বেশি দামে করতে হয়। মাছের দাম বাড়ার কারণে আমাদের পুঁজিও বেশি লাগতেছে।
এদিকে সবজির দাম কিছুটা কমার আভাস পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত সবজির বাজার ক্রেতা সাধারণের নাগালের বাইরেই বলা চলে। এখনো ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে ঝিঙা, বেগুন, টমেটো। মরিচের কেজি এখনো ৩০০ টাকার ওপরে। বাদবাকি বেশির ভাগ সবজির কেজিই ৮০ টাকার আশেপাশে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, ঝিঙা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া, প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, মুলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ টাকা, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কঁচু প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে কথা হয় বেশ কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। তাদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়লে তার প্রভাব নিম্ন আয়ের মানুষের উপরে সরাসরি পড়ে। আমরা তো দেশি মুরগি বা পাকিস্তানি সোনালি মুরগি কিনে খেতে পারবো না। ব্রয়লার, পাঙাশ ও তেলাপিয়া আমাদের ভরসা। সেখানে দাম বাড়লে পকেটে টান পড়ে।
আরটিভি/এমএম