images

শিক্ষা / রাজধানী

কোনো ফাইল ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখা যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ , ১১:০২ পিএম

প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে কোনো ফাইল ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় বনানীর ঢাকা শেরাটন হোটেলে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)-এর এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে তিনি যখন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক-এর সঙ্গে কাজ করেছেন, তখন কোনো ফাইল ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে থাকত না। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বর্তমানেও তিনি সচিবকে একই নির্দেশনা দিয়েছেন। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অতিরিক্ত মনিটরিং করি, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করি; তাহলে তারা কাজ করতে পারবে না। আবার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া যাবে না; যাতে এগুলো ‘হলি আর্টিজান’-এর মতো জঙ্গি কারখানায় পরিণত হয়। অবশ্যই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরকারকে আপনাদের কথা শুনতে হবে, সমস্যাগুলো শুনতে হবে এবং সেগুলোর সমাধান করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই ক্রস-বর্ডার এডুকেশন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমরা দেখেছি, ৮০-এর দশকে যখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশে এসে পড়াশোনা করত। আর আজ আমরা সেখানে গিয়ে পড়াশোনা করছি।

আপনাদের মতো ডিস্টিংগুইশড একাডেমিশিয়ানরা দেশে ফিরে এসে কাজ করতে চাচ্ছেন; আমি অবশ্যই আপনাদের সম্মান জানাই। কারণ আমরা যারা বাইরে যাই, তারা যেন দেশে ফিরে আসতে পারি; সেই জায়গা তৈরি করা জরুরি।

আরও পড়ুন
Web-Image6

দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সহায়তা দেবে সরকার, আবেদন যেভাবে

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৯২ সালে যে ধারণা থেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আইন করা হয়েছিল; সেই ধারণার ফল আমরা আজ পাচ্ছি। এটাকে পরিবর্তন বা সংশোধনের চেষ্টা হয়েছে ২০১০ সালে, আবার ২০২৫ সালেও আমরা দেখেছি; প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কীভাবে সরকারি প্রশাসনের অধীনে নিয়ে আসা যায়—সেই চেষ্টা হয়েছে। আমি সরাসরি বলছি, ক্রস-বর্ডার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চারটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি জানি না শিক্ষা মন্ত্রণালয় কীভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আমাদের বসে কথা বলতে হবে, জানতে হবে, বুঝতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠী। এই খাত থেকেই আমরা সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। আমরা দেখেছি—নর্থ সাউথসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের ভিসা সমস্যাও রয়েছে, এ বিষয়ে অনেকেই আমাকে জানিয়েছেন। আমরা একটি কমিটি গঠন করবো এবং ১৯৯২ সালের আইন পর্যালোচনা করবো। আধুনিক সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে এগোনো যায় সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমি বলি, ভালো মডেলগুলো অনুসরণ করতে হবে। যারা ভালো করেছে, তাদের কাছ থেকে শিখতে হবে। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে।
আরটিভি/কেডি