বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৬:২২ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ি ঝিরিপথ দিয়ে অভিনব কৌশলে বিপুল পরিমাণ কাঠ পাচার করার চেষ্টা করে একটি চক্র। বলিউড সিনেমা ‘পুষ্পা’র মতো গোপন পথে কাঠ সরানোর সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে কাঠগুলো জব্দ করে।
সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পাহাড়ি ঝিরি দিয়ে ভেসে আসে ৭৬টি গাছের গুঁড়ি। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরাপত্তা সদস্যরা এসব কাঠ জব্দ করেন। কাঠগুলোর বাজার মূল্য আনুমানিক ২ লাখ টাকার ওপরে, যার মধ্যে রয়েছে সেগুন ও গামারি সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের গুঁড়ি।
জানা গেছে, শীতের শেষের দিকে নালায় পানি কম থাকার সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা ঝিরির উপরে বাঁধ দিয়ে পানি জমিয়ে রাখে। এরপর বাঁধ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ পানির স্রোত তৈরি করে কাঠগুলো ভেসে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই কৌশল মূলত পরিবহনে সমস্যা এড়াতে এবং কুশিপনা এড়ানোর জন্য নেওয়া হয়।
ঘটনা লক্ষ্য করা কয়েকজন শিক্ষার্থী ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামক গ্রুপে ভিডিও পোস্ট করেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী রাতেই অভিযান চালিয়ে ‘ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস’ সংলগ্ন এলাকায় বাঁশ বাগানের পেছনের ঝিরি থেকে কাঠগুলো উদ্ধার করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের সুপারভাইজার শাহেদুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে ভিডিও দেখে আমরা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করি। প্রায় ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৭৬টি কাঠের টুকরো উদ্ধার করা হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি। প্রশাসনের নির্দেশে পাহারা জোরদার করা হয়েছে, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, গাছের গুঁড়ির প্রকৃত মালিক এখনো শনাক্ত হয়নি। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে আসে এবং বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া কাঠ কাটতে ও পরিবহন করতে পারা যাবে না। মালিক বা অনুমতির কোনো প্রমাণ না পেলে জব্দকৃত গাছ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের অবৈধ পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
আরটিভি/এসকে