images

ক্যাম্পাস

রাকসুর ভোট চাইতে গিয়ে পরিচয়, অতঃপর...

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:০২ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাকসু নির্বাচনের প্রচারণা করতে গিয়ে পরিচয়, এরপর প্রেম এবং অবশেষে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন দুই শিক্ষার্থী রিদুয়ানুল হক ইমন ও মুসলিমা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন তারা। এর আগে চার মাসের সম্পর্কের পর গত ৭ এপ্রিল উভয় পরিবারের সম্মতিতে রাজশাহীর বিনোদপুর কাজী অফিসে তাদের বিয়ে হয়।

ইমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ। অন্যদিকে বাগেরহাটের বাসিন্দা মুসলিমা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

রাকসু নির্বাচনের প্রচারণার সময় ইমনের সঙ্গে মুসলিমার পরিচয় হয়, যা ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব ও প্রেমে রূপ নেয়। কয়েক মাস একসঙ্গে সময় কাটানোর পর তাদের সম্পর্ক গভীর হয়। একসময় মুসলিমা অসুস্থ হলে ইমন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকেই বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। প্রথমে পরিবার বিয়েতে রাজি না থাকলেও, দুজনের বোঝানোর পর উভয় পরিবার সম্মতি দেয়। পরে ৭ এপ্রিল তাদের বিয়ে হয়।

বিয়ের অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুসলিমা গণমাধ্যমকে বলেন, সবকিছু যেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে গেল, কিন্তু অনুভূতিটা খুবই আন্তরিক ও গভীর। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ধীরে ধীরে ভালো লাগা; সব মিলিয়ে ইমনকে জীবনের সঙ্গী হিসেবে পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। পরিবারের সম্মতিতে বিয়েটা হওয়ায় আমরা আরও স্বস্তি পেয়েছি। এখন আমাদের লক্ষ্য পড়াশোনা শেষ করে একসঙ্গে ভালো কিছু করা এবং সুন্দরভাবে জীবনটা গুছিয়ে নেওয়া।

প্রেমের সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে চাইলে ইমন গণমাধ্যমকে বলেন, রাকসু নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে আমি মমতাজ উদ্দীন কলাভবনের সামনে প্রচারণা করতে যাই। তখন প্রথম দেখাতেই তাকে ভালো লাগে। তার সঙ্গে থাকা বান্ধবীদের মধ্যে একজনকে আমি চিনতাম। কিছুদিন পর সে আমাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। এরপর আমি তাকে মেসেজ দেই এবং টুকটাক কথা হয়। কিছুদিন পর জানতে পারি, সে শহরের তালাইমারি এলাকায় থাকে। এরপর তাকে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাই। এভাবে কয়েকদিন একসঙ্গে চা খাওয়া ও আড্ডার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পারিবারিকভাবে বিষয়টি কীভাবে জানাজানি হয়— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একবার সে অসুস্থ হলে আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে তার ভাই আমাকে কল দেন। সেখান থেকেই তার ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। আমাদের পরিকল্পনা ছিল পরে বিয়ে করার। কিন্তু বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হলে রাজশাহীতে উভয় পরিবারের সদস্যরা এসে কথা বলেন। এরপর ৭ এপ্রিল বিনোদপুর কাজী অফিসে আমাদের বিয়ে হয়। পরে বিয়ের অনুষ্ঠান করে ১৭ এপ্রিল সবাইকে জানানো হয়।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

ঢাবির 'গেস্টরুমে নির্যাতনের’ বিবরণ দিলেন ছাত্রলীগ নেতা

পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা ছিল কি না— এ প্রশ্নে ইমন বলেন, শুরুর দিকে পরিবার রাজি ছিল না। আমরা এখনও শিক্ষার্থী হওয়ায় সবাই চাইছিল পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে হোক। কিন্তু আমরা দুজনই নিজেদের পরিবারকে বুঝিয়ে রাজি করাই। পরে উভয় পরিবার সম্মতি দেয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইমন জানান, তারা একসঙ্গে ভালো কিছু করতে চান। পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান এবং দেশে বা বিদেশে ভালো চাকরি করার ইচ্ছা রয়েছে তাদের।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। সে নির্বাচনে ছাত্র অধিকার পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন রিদুয়ানুল হক ইমন।

আরটিভি/এমএইচজে