ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাবির \'গেস্টরুমে নির্যাতনের’ বিবরণ দিলেন ছাত্রলীগ নেতা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামের সঙ্গে আরিফ ইশতিয়াক রাহুল। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের ‘গেস্টরুমে’ জুনিয়রদের ‘আদব-কায়দা’ শেখানোর নামে ছাত্রলীগ যে ‘নির্যাতনের সংস্কৃতি’ চালু করেছিল, তার বিবরণ ফেসবুকে তুলে ধরেছেন আরিফ ইশতিয়াক রাহুল নামে এক ছাত্রলীগ নেতা।

স্যার এফ রহমান হলে থাকা নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী রাহুল ছিলেন ছাত্রলীগের উপ দপ্তর সম্পাদক।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বছর যে ১২৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছিল, তাদের মধ্যে রাহুলও রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে ফেসবুক পোস্টে রাহুল লিখেন, আমার কিছু কথা আছে৷ আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ানক রাতের স্মৃতি। যেগুলো বলার জন্য আমি অপেক্ষা করেছি বেশ কিছু বছর। দল ক্ষমতায় থাকতে এই কথাগুলো বললে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা কথাগুলো লুফে নিত। ছাত্রলীগ চাপে পড়ত। তাই বলিনি। কিন্তু এখন বলা প্রয়োজন মনে করছি।
২০২২ সালের ১৪ এপ্রিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রথম পহেলা বৈশাখ। প্রগতিশীল ধারার সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে এই দিনটি আমার কাছে দুইটা ঈদের চেয়ে কোনো অংশে কম আনন্দের নয়। ২০১৮ থেকে ২০২১— এই চারটা বছর মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছি আর প্রতিবারই ভেবেছি, কোনো একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব, তখন হল থেকে এসে শোভাযাত্রায় অংশ নেব। বলতে গেলে এটা আমার কাছে এক রকম স্বপ্নের মতো ছিল।

তিনি লিখেন, ২০২২ সালে এসে আমার সেই দিনটি আসে। আমি খুবই রোমাঞ্চিত ছিলাম। তখনও ক্যাম্পাসে বাইক আনিনি। এপ্রিলের শুরু থেকে প্রতিদিনই হেঁটে হেঁটে চারুকলায় যেতাম। ঘুরেফিরে কাজ দেখতাম। ছবি তুলতাম। মঙ্গল শোভাযাত্রায় যাওয়ার জন্য পহেলা বৈশাখের আগের রাতে আজিজে গিয়ে একটা পাঞ্জাবিও কিনেছিলাম।

এখন যেমন মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে জলঘোলা হচ্ছে তখনও হয়েছে। প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী গোষ্ঠী বিপুল সমারোহে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাল। মঙ্গল শোভাযাত্রায় কাউকে না যাওয়ার জন্য ক্যাম্পেইন করল। এ নিয়ে কয়েকদিন ফেসবুকও খুব গরম ছিল। যে কারণে আমার মঙ্গল শোভাযাত্রায় যাওয়ার ইচ্ছেটা আরও বেড়ে যায়।

সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করে এই ছাত্রলীগ নেতা লিখেন, ১৪ এপ্রিল খুব ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠলাম। খুব ভোরবেলা বলতে যে সময় উঠলে শোভাযাত্রায় যেতে সুবিধা হয় সে সময়। ১০৩ নং রুমে থাকতাম তখন। রুমটা ছিলো গণরুম, আমরা অলমোস্ট ২০-২২ জন ছিলাম রুমে। তাড়াতাড়ি চারুকলায় পৌঁছানোর জন্য দ্রুত সময়ের মধ্য গোসল করে নতুন পাঞ্জাবি-পাজামা পরে রুম থেকে কেবল বের হয়েছি, দরজা খুলেই দেখি সাদ্দাম ভাই সিঁড়ি দিয়ে নামছেন। আমাদের রুমের সামনেই সিঁড়ি। কমলা রঙের পাঞ্জাবি পরেছেন। বৈশাখ-বৈশাখ একটা ভাব আছে। ওনাকে দেখে দরজার সামনে দাঁড়ালাম। উনি দরজার সামনে আসলে সালাম দিয়ে বললাম, ভাই, আপনার সাথে একটা ছবি তুলব। সাদ্দাম ভাই বললেন, এখানে অন্ধকার, ভালো ছবি আসবে না, বাইরে চলো।

এর পরের ঘটনা তুলে ধরে রাহুল লিখেন, আমি সাদ্দাম ভাইয়ের পেছন পেছন হলগেটে গেলাম। গিয়ে দেখি মুন ভাইসহ পুরো হল ছাত্রলীগ সাদ্দাম ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছে। সবাই সাদ্দাম ভাইকে সালাম দিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলে সাদ্দাম ভাই মুন ভাইকে বললেন, দাঁড়াও, ও একটা ছবি তুলতে চায়।

তিনি আরও লিখেন, কার হাতে ক্যামেরা দিলাম মনে নেই। সাদ্দাম ভাইয়ের সেই আমার খুব সুন্দর একটা ছবি উঠল। আমার ও সাদ্দাম ভাইয়ের একদম সামনেই মুন ভাই দাঁড়িয়ে ছিল। আমি তখন মুন ভাইয়ের রাজনীতি করি। নেতা আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ব্যাপারটা চোখে ভালো লাগল না, তাই মুন ভাইকে বললাম, ভাই, আপনিও আসেন (ছবিতে)। মুন ভাইও আসলো। তিনজন মিলে একটা ছবি হলো। আমি বের হয়ে গেলাম। ওনারা সবাই এই সুযোগে সাদ্দাম ভাইয়ের সাথে ছবি তুলল। এই ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু শেষ হলো না।

ঘটনার বর্ণনার প্রেক্ষিতে তিনি লিখেন, এরপর সারাদিন খুব আনন্দের সাথে কাটালাম। রোজার দিন ছিল তখন। রোজা রেখে সারাদিন এতবেশি হাঁটাহাঁটি করলাম যে বিকেল থেকেই অসুস্থ লাগা শুরু হলো। এ কারণে রাতে আর হলে গেলাম না, অসুস্থ শরীরে যাতে গেস্টরুম না করতে হয়। রাতে একাত্তর হলে হানিফ ভাইয়ের রুমে গেলাম। উনি কি যেন রান্না করছিল, আমি জিনিসপত্র এগিয়ে দিচ্ছিলাম। এই সময় হল থেকে এক বন্ধু কল দিলো। স্পষ্টতই বুঝতে পারলাম, গেস্টরুমে যাওয়ার জন্য কল দিচ্ছে। কলটা না ধরে ফোন সাইলেন্ট করে রেখে দিলাম। কিছুক্ষণ পর ফোন হাতে নিয়ে দেখি, আরও ৩ জন মিলে ১০-১২টা কল দিয়েছে। এটা দেখে আরও শিওর হয়ে গেলাম, গেস্টরুমে আমাকে খুঁজছে।

রাহুল লিখেন, কিছুটা ভয় লাগতে শুরু করল। রান্নার কাজ ততক্ষণে শেষ। ফোন তখন হাতে। একটু পরে মান্নার কল। টানা কল। ১০ মিনিটে মনে হয় ২৫টা কল দিয়েছে। এত কল দেখে বুঝে গেলাম, খুব ভয়ানক কিছু ঘটেছে। কল না ধরে আর উপায় নেই। কলটা ধরলাম।
কল ধরার সাথে সাথে মান্না কান্না-কান্না কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করল- রাহুল, তুই কই? আমি বললাম- আমি একাত্তর হলে, কেনো? বললো- তোর জন্য ভাইয়েরা সবাইকে খুব প্যারা দিচ্ছে, তুই তাড়াতাড়ি হলে আয় প্লিজ।

তিনি লিখেন, আমার জন্য সবাইকে প্যারা দিচ্ছে। না গিয়ে আর উপায় কি? আমি গেলাম। ১০৮নং রুমে গেস্টরুম বসেছে। গেস্টরুমের নিয়মানুযায়ী ১০৩নং রুম থেকে একটা ফরমাল শার্ট পরে ১০৮নং রুমে গেলাম। রুমে ঢুকে সালাম দিলাম। গেস্টরুমের নায়কেরা একেকজন রেগে অগ্নিশর্মা। আমি যাওয়ার সাথেই সবাইকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলল। আমাকে একা রেখে কেউ বের হলো না। পিটিয়ে বের করে দিলো সবাইকে। বুঝে গেলাম, সিঙ্গেল গেস্টরুম হবে আমার।

পরের ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি লিখেন, রুমে আমার ব্যাচমেট আর কেউ নেই। একদিকে আমি, অন্যদিকে ইমিডিয়েট সিনিয়র ১৫-২০ জন। এর মধ্যে স্ট্যাম্প নিয়ে বসলো কেউ কেউ। স্ট্যাম্প রুমেই ছিল। কেউ গালাগালি শুরু করল, কেউ প্রশ্ন করতে শুরু করল। একসাথেই চলল সব।
গেস্টরুমের নিয়মানুযায়ী সিনিয়রদের কথার কোনো উত্তর দেওয়া যাবে না। উত্তর দিলেই বিপদ। তাই চুপ করে থাকলাম। এরমধ্যে চড়-থাপ্পড় হয়ে গেছে কয়েক দফা। ক্রমাগত বালিশ মারছিল। যে যেভাবে পারল মারল। আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলাম।

রাহুল লিখেন, যেসব ‘অপরাধের’ কারণে তাকে নির্যাতন করা হয়, তার বিবরণ এরপর তাকে শোনানো হয়- তারা আমার অপরাধনামা শোনালো।
অপরাধগুলো- ১. আমি কার থেকে অনুমতি নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় গিয়েছি?
২. আমি কেনো সাদ্দাম ভাইয়ের সাথে ছবি তুললাম?
৩. আমি কেনো মুন ভাইকে ‘আপনিও আসেন’ বললাম?”

গেস্ট রুমে নিজে ‘নির্যাতিত হওয়ার’ বিবরণ তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরিফ ইশতিয়াক রাহুল লিখেন, আমি অবাক হয়ে গেলাম, এ কেমন ছাত্রলীগ যারা মঙ্গল শোভাযাত্রায় যাওয়ার জন্য এভাবে মারছে?

তিনি লিখেন, এতক্ষণ আমি মার খেতে খেতে ভাবারই সময় পাইনি, আমাকে কেন মারছে? অপরাধগুলো শুনে বুঝতে পারলাম, মঙ্গল শোভাযাত্রায় যাওয়ার জন্য ও সাদ্দাম ভাইয়ের সাথে ছবি তোলার জন্য আমার সিঙ্গেল গেস্টরুম হচ্ছে।
এর মধ্যে একজন রুমের লাইট অফ করে দিলো। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে একজন থাপ্পড় মারল। আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। বেকায়দাজনকভাবে মেঝেতে পড়ে গেলাম। আমি মাটিতে পড়ে থাকতে ৩-৪ জন উঠে এসে আমাকে মারতে শুরু করল। কেউ লাথি দিলো, কেউ পা দিয়ে ডলা দিলো, কেউ ফুটবলের মতো শট মারল।
একটু পরে লাইট জ্বালিয়ে দিলো। উঠে দাঁড়াতে বললো। দাঁড়ানোর চেষ্টা করলাম- পারলাম না। এতক্ষণ তেমন ব্যথা বুঝতে পারিনি। এই সময় অসহ্য যন্ত্রণা হলো। ডান চোখের নিচে জ্বলছিলো। কোমরে এত জোরে কিছু লাথি লেগেছিল যে বসতেও পারলাম না, দাঁড়াতেও পারলাম না। তাও কোনো রকমে উঠে বসলাম। দাঁড়াতে পারছি না বলে হিজড়া, ধ্বজভঙ্গ, ল্যাংড়া ইত্যাদি বলে টিটকারি করছিল।

এ সময় একজন ফোন দেখতে চান জানিয়ে রাহুল লিখেন, দিলাম। ইচ্ছেমতো ঘাঁটাঘাঁটি করল। কেনো ফোন ঘাঁটছে আমি বুঝতে পেরেছিলাম। যে কোনো কিছুর বিনিময়ে শিবির বানিয়ে হল থেকে বের করে দেবে। কিছুই পেলো না। পাওয়ার মধ্যে পেলো আমার আইডি দিয়ে খোলা কিছু পেইজ, এর মধ্যে একটা ছিলো খায়রুজ্জামান লিটনের নামে। এই পেইজ থেকে আমি ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন প্রচার করতাম। বড় নেতাদের নামে পেইজ হলে রিচ ভালো হয়। তাই খায়রুজ্জামান লিটনের নামে খুলেছিলাম।

ছাত্রলীগের এই নেতা লিখেন, আমি কেনো খায়রুজ্জামান লিটনের নামে পেইজ খুলেছি সেটা নিয়ে আরও কিছু সময় চলল। সে সময় মেরেছিল কি না মনে নেই। শরীরের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল। অলরেডি চোখের নিচে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে।
অবস্থা বেগতিক দেখে ওনারা নিজেরা নিজেরা কি যেন আলোচনা করল। ব্যথার তীব্রতায় এসব লক্ষ্য করিনি। একটু পর অটো ডেকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলো। সাথে উনাদের মধ্যে তুলনামূলক ভালো দুইজন গেলো।

আরও পড়ুন

রাহুলের ভাষায়, ডাক্তার দেখলো। কিছু ওষুধ দিলো। এরমধ্যে একটা ওষুধ খাওয়ার জন্য আগে কিছু খেতে নিতে হবে। একটা কলা ও হাফ তেহারি এনে দিলো। চুলায় রান্না রেখে এসেছিলাম, রাতে খাওয়া হয়নি। প্রচণ্ড ক্ষুধা লেগেছিল। সেহরির সময়ও শেষের দিকে। তাড়াতাড়ি কলা ও তেহারি খেয়ে নিলাম।
ডাক্তার দেখল। ঘটনা কী সেটা বুঝতে পেরেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল হওয়ায় ডাক্তারও চুপ থাকল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হলে পাঠিয়ে দিলো।

ঘটনা যে তখনও শেষ হয়নি, সে কথা তুলে ধরে রাহুল লিখেন, হলে এসে কিছুক্ষণ বসে সেহরির পর আরেক দফা গেস্টরুম। এবার আর মারল না। গালাগালিও একটু কমই করল। কিন্তু আমার অপরাধ অনেক বড়, তাই এটুকু শাস্তি দিয়ে হবে না। আরেকটু শাস্তি হতে হবে।
বাড়তি শাস্তি হিসেবে যোগ হলো ৭ দিনের জন্য হল থেকে বহিষ্কার। ৭ দিন আমি হলে থাকতে পারব না। আমার জিনিসপত্রও হলে রাখতে পারব না। সকাল হওয়ার আগেই হল ছাড়তে হবে। আমি সকাল হওয়ার আগেই হল থেকে বের হয়ে গেলাম। একাত্তর হলের গণরুমে তৈমুরের কাছে কয়েকদিন ও শাহ নেওয়াজ হোস্টেলে শাহ আলমের কাছে কয়েকদিন থাকলাম।

এতদিন চুপ থেকে এখন উচ্চকণ্ঠ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রাহুল লিখেছেন, এত বড় ঘটনা খুব বেশি লোকের কাছে বলিওনি। বাসায়ও না। কেন জানেন? লোক জানাজানি হলে বিশাল বড় নিউজ হত, পুরো দায় আসত ছাত্রলীগের ওপরে। সিনিয়র কারো কাছে বিচার দিলে এটা নিয়ে জলঘোলা হতো। হলের সিনিয়রদের চক্ষুশূল হতাম আমি। হলে থাকতে পারতাম না।
হলে না থাকলে ছাত্রলীগ করতে পারতাম না। বাসায় জানালে এক মুহূর্তের জন্যও হলে থাকতে দিত না। যারা এভাবে নির্যাতন করেছে তারাও জানত, আমাকে যতই মারুক, আমি ঘটনা গোপন রাখব। তাই বার বার আমাকেই মেরেছে। এটা এক রাতের কথা বললাম, এ রকম ৮টা সিঙ্গেল গেস্টরুমের স্মৃতি আছে আমার।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডিআইইউতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি, উপাচার্যকে স্মারকলিপি
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) কোনো শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বহিষ্কারসহ রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য পরিষদ’। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সম্ভাব্য গোপন তৎপরতা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ ও আশঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সুনামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে আরও বলা হয়, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কোনোভাবেই এমন কর্মকাণ্ডের আশ্রয়স্থল হতে পারে না, যা দেশের আইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরবতা বা পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব এ ধরনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সম্ভাব্য তৎপরতা সম্পর্কে পাওয়া অভিযোগগুলো দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। তদন্তে কোনো শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রীয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করে ‘জুলাই ঐক্য পরিষদ’। আরটিভি/এসআর
ডিআইইউতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি, উপাচার্যকে স্মারকলিপি
ইবিতে গোপনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টারিং
বিভিন্ন প্রতিবাদী লেখা সম্বলিত ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টারিং করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক রাত ১১টার দিকে গোপনে এ পোস্টারিং কর্মসূচি করে সংগঠনটি। সরেজমিনে দেখা যায়, পোস্টারে ‘ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন’, ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনালের ফরমায়েশি রায়ের প্রতিবাদ’, এবং ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে কি হবে?’ লেখা মোট তিনটি শিরোনাম দেখা যায়। তবে শিক্ষার্থীদের চোখে পড়ার আগেই নিরাপত্তা কর্মীরা এসব পোস্টার সরিয়ে নেয়।  এদিকে ‘নেত্রীর প্রত্যাবর্তন সুনিশ্চিত করতে ও অবৈধ ক্যাঙ্গারু ট্রাইবুনালের ফরমায়েশি রায়ের প্রতিবাদে ইবি ছাত্রলীগের উদ্যোগে পোস্টারেং কার্যক্রম’ উল্লেখ করে এসব পোস্টারের ছবি ও একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন সংগঠনটির শাখা আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হাফিজ। নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, একই সময়ে একদিকে সিগারেটের টাকা পরিশোধ নিয়ে দোকানি কর্তৃক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, নিরাপত্তা কর্মীরা সেইদিকে যখন নজর দিই, সেই সুযোগে এসব পোস্টার লাগিয়ে পালায় ছাত্রলীগ। ঘটনার একই সূত্র কিনা বা ইন্ধন আছে কিনা প্রশাসন খতিয়ে দেখছে। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে উপাচার্য ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছি। এ কাজের সাথে যারা জড়িত ও ইন্ধন দিয়েছে তাদের শনাক্ত করে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দুষ্কৃতকারীদের ঠাঁই হবে না। আরটিভি/এসআর
ইবিতে গোপনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টারিং
পাবিপ্রবিতে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত
‘স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ গড়তে ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন প্রতিপাদ্য’কে সামনে রেখে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস-২০২৬।  শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি এ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির সহযোগিতায় দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় একটি আনন্দ র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এসময় ফার্মাসিস্ট শপথ পাঠ ও  কেক কাঁটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শেষ হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন ভবনে ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শামীম রেজা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির সিনিয়র ম্যানেজার (হিউম্যান রিসোর্স) মো. ফয়সাল ইকবাল। অনুষ্ঠানে কিনোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির সিনিয়র ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। ইনভাইটেড স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) মো. জাহাঙ্গীর আলম খন্দকার।  এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেরদুল হক উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, আপনারাই দেশের ভবিষ্যৎ। আজকের এই মেধাভিত্তিক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। অর্জিত জ্ঞানকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর সৎ মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টরা হলেন মেডিকেশন এক্সপার্ট। ওষুধের ভুল প্রয়োগ রোধ এবং রোগীদের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানে ফার্মাসিস্টদের দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই শিক্ষার্থীদের নিজেদের একজন দক্ষ ও যোগ্য ফার্মাসিস্ট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উপাচার্য আরও বলেন, একাডেমিয়া ও ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রির এই মেলবন্ধন শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঙ্গে ব্যবহারিক বাস্তবতার সুদৃঢ় যোগাযোগ তৈরি করবে। পাবনা অঞ্চল বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ফলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা সরাসরি দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার যে সুযোগ পাচ্ছে, তা তাদের আন্তর্জাতিক মানের ফার্মাসিস্ট হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কিনোট স্পিকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আমাদের ওষুধের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অনেক সময় আমরা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করেই সেবন করি, যা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। ফার্মাসিস্টদের এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নেও তাদের কাজ করতে হবে। আরটিভি/এসআর
পাবিপ্রবিতে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত
১০ তলা ভবনে লিফট নেই, ভোগান্তিতে বাকৃবির খালেদা জিয়া হলের ছাত্রীরা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রীদের ‎আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে নির্মিত ১০ তলা ভবনবিশিষ্ট বেগম খালেদা জিয়া হল চালু হয় গত বছর সেপ্টেম্বরে। তবে উদ্বোধনের এক বছর পার হলেও এখনও লিফট ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি। ৩৫০ জন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই হলে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় হাজারে পৌঁছেছে।  ফলে বহুতল এই ভবনে নিয়মিত সিঁড়ি ভেঙে ওঠানামা করতে গিয়ে দৈনন্দিন যাতায়াত ও জরুরি চিকিৎসাসেবায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের।  শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ তলা আবাসিক হলে লিফট নাই এরকম দেখি নাই। হলে লিফট না থাকায় শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনকে চরম দুর্ভোগের মুখে ফেলে দেয়। প্রতিদিন সকালে ও বিকালে ক্লাস শেষে এবং অন্তত তিন বেলা খাবারের প্রয়োজনে এই দীর্ঘ সিঁড়ি ভাঙা শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রান্তির কারণ।  তবে সবচেয়ে ঝামেলায় আমাদের পড়তে হয় যখন ১০ তলার কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে। তাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে হেলথকেয়ার নিয়ে যাওয়া এবং চিকিৎসা শেষে পুনরায় উপরে তুলে আনা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। তাই শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার স্বার্থে এমন ভবনে লিফট সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ‎পশুপালন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের এবং হলের ৮ম তলায় অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস শেষে অনেক ক্লান্ত থাকি। এরপর এত ওপরে উঠতে গিয়ে আরও কাহিল হয়ে পড়ি। অনেক সময় ক্লাসের ফাঁকে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিরতি থাকলেও রুমে ফিরতে পারি না।  তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ক্লাস দিনে দুই সময়ে হওয়ায় হলে আসা-যাওয়া করতে অনেক কষ্ট হয়। আমাদের ক্যান্টিনও নিচতলায়। খাবার নিতে নিচতলা পর্যন্ত যেতে হয়, যা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। আবার ক্যান্টিনের খাবারের মানও তেমন ভালো নয়। ভবনের ‎১০ম তলায় অবস্থান করা প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ১০ তলায় সিট বরাদ্দ পাওয়ায় অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। একবার ওপরে উঠলে আবার নিচে নামতে ইচ্ছা করে না। এ কারণে অনেক সময় দিনে এক বেলা খাবার খাই। একবার নিচে নেমে খাবার নিয়ে আসি। সকালের খাবার তো খাওয়াই হয় না।  তিনি বলেন, শুক্রবার ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ থাকায় খাবারের কষ্ট আরও বেশি হয়। এ ছাড়া আমাদের রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো কিছু রান্না করে খাওয়ারও উপায় থাকে না। তাই অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়।‎ ‎শিক্ষার্থীদের এই উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বিষয়ে উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এটি সমাধানের জন্য অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। ‎​নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা শিক্ষক ও হাউজ টিউটররা দফায় দফায় মিটিং করেছি। লিফট স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আমি আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি লিফট চালু হয়ে যাবে। লিফট চালু হলে ছাত্রীদের উঠানামার কষ্ট অনেকখানি কমে যাবে।​ ১০ তলা পর্যন্ত সিড়ি দিয়ে উঠানামা করা কতটা কষ্টের এবং অমানবিক তা আমরা অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে গভীরভাবে অনুভব করি।‎ ‎লিফট চালুর অগ্রগতি নিয়ে প্রধান প্রকৌশল মুহ. এনামুল হক বলেন, খালেদা জিয়া হলের জাপানি প্রযুক্তির নতুন লিফটটির মেশিনসহ এটি স্থাপনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তিন তলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে।  তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষামূলকভাবে এটি ব্যবহার করার পর লিফটটি স্থায়ীভাবে চালু করা হবে আপাতত আমরা একটি লিফট চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্য লিফটগুলোর যন্ত্রাংশ আসলেও কাজ শুরু হয়নি এবং নিয়মিত সার্ভিসিং বজায় রেখে এটি চালুর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। আরটিভি/এসআর
১০ তলা ভবনে লিফট নেই, ভোগান্তিতে বাকৃবির খালেদা জিয়া হলের ছাত্রীরা
নতুন উপাচার্যের যোগদানের বিরোধিতায় চুয়েটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের যোগদান প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি হিসেবে কাকে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। দুপুর ২টায় মিছিলটি টিএসসি থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে মিছিল শেষ হয়। সেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের যোগদানকে ঘিরে তাদের অবস্থান জানান এবং পরবর্তী কর্মসূচি-দেয়াল লিখন এর ঘোষণা দেন। মিছিলে অংশ নেওয়া তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন বলেন, গতকাল আমরা জেনেছি, উপাচার্য পদে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম যোগদানপত্র পাঠিয়েছেন। এর প্রতিবাদেই আজ আমরা বিক্ষোভ মিছিল করেছি। গতকাল আমাদের শিক্ষকরা রোববার থেকে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা কোনোভাবেই অধ্যাপক শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে চাই না। এর আগে বৃহস্পতিবার উপাচার্য হিসেবে যোগদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত যোগদানপত্র পাঠান অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।  ওই পত্রে তিনি চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগদানের কথা উল্লেখ করেন। এরই প্রতিবাদে তার যোগদান প্রত্যাখ্যান করে আজ শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আরটিভি/এসআর
নতুন উপাচার্যের যোগদানের বিরোধিতায় চুয়েটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
আরও পড়ুন
ইবিতে গোপনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টারিং
ছাত্রলীগ নেতাকে পালিয়ে যেতে দিয়ে এসআই প্রত্যাহার
জুলাই নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় ডিআইইউতে বহিষ্কার ছাত্রলীগ কর্মী
অন্তরঙ্গ অবস্থায় ছাত্রলীগের ফুলবাবু ধরা, অতঃপর...