শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ১০:২৪ পিএম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমতি ছাড়া অপরিকল্পিত বৃক্ষরোপণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে বিভিন্ন পরিবেশ সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত ও নিয়মবহির্ভূতভাবে গাছ লাগানো হচ্ছে। যত্রতত্র এভাবে গাছ রোপণের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান এবং ভূগর্ভস্থ ইউটিলিটি লাইন (বিদ্যুৎ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের নান্দনিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। এখন থেকে ক্যাম্পাসের যেকোনো স্থানে গাছ রোপণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রকাশ করছেন মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ মন্তব্য করেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা কেন থাকবে? আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন, বৃক্ষরোপণের ওপর নিষেধাজ্ঞা কীভাবে যৌক্তিক হতে পারে। আবার কেউ বলছেন, গাছ কাটতে না পেরে বৃক্ষরোপণই নিষেধ করল প্রশাসন, কেউবা এ উদ্যোগকে জানাচ্ছে সাধুবাদ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরই বিভিন্ন নির্মাণকাজের দোহাই দিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানের গাছ কেটে আসছে। বর্তমানে প্রধান সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে রাস্তা সম্প্রসারণের প্রকল্পও হাতে নিয়েছে প্রশাসন। তবে কাটা গাছের পরিবর্তে কোথায় নতুন গাছ লাগানো হবে বা এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো দীর্ঘমেয়াদি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কখনোই স্পষ্ট ধারণা দেয়নি।
একের পর এক গাছ কাটার কারণে ক্যাম্পাসে সবুজের পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে মরুকরণের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে পর্যাপ্ত ছায়ার অভাবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।
এ বিষয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় আর্থ ক্লাবের সভাপতি মো. আবু সুফিয়ান সাদী বলেন, 'বিশ্ববিদ্যায়ের পরিবেশসচেতন শিক্ষার্থীরা অবশ্যই বৃক্ষরোপণ করবে, এখন যেহেতু বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত মৌসুম। কিন্তু সম্প্রতি আমরা দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে নিয়মিত গাছ কাটা হচ্ছে বা গাছগুলো স্থানান্তর করা হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে লাগানো গাছগুলো কাটা পড়ে যাচ্ছে। এর পেছনে বড় একটি কারণ হচ্ছে, আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চুড়ান্ত নকশাটিই এখনো জানি না। আমাদের ক্যাম্পাসে অনেক কনস্ট্রাকশন কাজ চলমান, কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই বলতে পারবে না কোনটা আসলে কী। উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে, এবং আমরা চাই না কোনো প্রাণের বিনাশ হোক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রীনক্যাম্পাস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ' বিভিন্ন সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন নিজেদের পছন্দমতো স্থানে নিজেদের পছন্দের গাছ রোপণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনার ওপর সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থার ঘাটতি রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত মাস্টারপ্ল্যান আসলে কেমন প্ল্যান? আর যে প্ল্যান বছর বছর পাল্টে যায়, সেটি কীভাবে মাস্টার প্ল্যান হয়? প্রায় ৩ থেকে ৩.৫ বছর আগে কদমতলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় গেট-সংলগ্ন সড়কের পশ্চিম পাশে প্রশাসনের উদ্যোগে গাছ লাগানো হয়েছিল। এখন আবার প্রশাসন সেই গাছগুলো তুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটাই কি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামীর পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের নমুনা? এখানেই শেষ নয়। এমন অসংখ্য উদাহরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা দপ্তর ইতোপূর্বে সৃষ্টি করে রেখেছে। পরিকল্পনা দপ্তরের পরিকল্পনা কতখানি নির্ভরযোগ্য ও ভরসাযোগ্য তার কোনো সুরাহা নেই, স্থানীয় পরিবেশ ও বিদ্যমান প্রকৃতির সঙ্গে পরিকল্পনা কেন সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায় না? প্রশ্ন থেকে যায়, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের নামে বৃক্ষনিধনের মহাযজ্ঞ হতে যাচ্ছে না কিনা, প্রকৃতির সুরক্ষা ও উন্নয়ন একটি আরেকটির পরিপূরক হলেও উন্নয়নের সঙ্গে প্রকৃতিকে সাংঘর্ষিকভাবে দেখানোর কারণ কী?’’
আরটিভি/ এসকেডি