রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৩৫ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় নিহতের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিও জানান তারা।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নিহতের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ, বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসিরুদ্দিন মিঝি, শিক্ষক অধ্যাপক ড. খান মুহাম্মাদ ইলিয়াস, শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী, শাখা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, শাখা জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সভাপতি এস এম শামীমসহ বিভাগটির প্রায় দু শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এসময় তারা ‘সাজিদ হত্যার তদন্ত আর নয় বিলম্ব’, ‘বিচার, বিচার, বিচার চাই, সাজিদ হত্যার বিচার চাই’, ‘তদন্ত নিয়ে তালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘সাজিদ হত্যার তদন্ত, করতে হবে করতে হবে’, ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সাজিদ ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?’, ‘খুনি ধর, জেলে ভর’, ‘খুনিদের ফাঁসি দাও, রশি লাগলে রশি নাও’, ‘সাজিদ ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’, ‘Justice, Justice, We want Justice’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পূর্ববর্তী প্রশাসন সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘ এক বছরেও হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাজিদ আব্দুল্লাহর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হল বা স্থাপনার নামকরণ এবং সাজিদ মারা যাওয়ার পর আর্থিক ক্ষতিপূরণের যে ওয়াদা করা হয়েছিল, অনতিবিলম্বে তা প্রদান করতে হবে।
শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, "শহিদ সাজিদ আব্দুল্লাহর নির্মম হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হলেও এখনো রহস্য উন্মোচন হয়নি এবং খুনিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রশাসনের বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ও টালবাহানার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দ্রুত রহস্য উন্মোচন, খুনিদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। ক্যাম্পাসের ১৭৫ একর এলাকাজুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধের দাবি জানান তিনি।"
নিহত সাজিদ আবদুল্লাহ'র পিতা আহসান হাবিবুল্লাহ বলেন, "আমি আমার ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হয়ে গেছি। এক বছর পার হওয়ার পরও বিচার না হওয়াটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? আর যাকে আমি হারিয়েছি তাকে তো পাব না। বিচারটাও কি পাবো না? এক বছর লাগবে কেন? এতো সময় তো লাগার কথা না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিচার নিশ্চিত করার জন্য আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি। কিন্তু আর যেন কাউকে এভাবে হারাতে না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে আরও সোচ্চার হতে হবে। এক বছর পরও কেন একজন আসামিও গ্রেপ্তার হলো না, এটা তো দুঃখজনক ব্যাপার। এত ভারাক্রান্ত কথা তো মুখ দিয়ে আসতে চায় না। প্রশাসনকে আহ্বান করি শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার করেন। দায়মুক্ত হন। আইন আছে, আদালত আছে। আল্লাহ তো বিচার চাওয়ার এই অধিকার আমাকে দিয়েছে। তাহলে বিচার করতে অসুবিধাটা কী? এখানে যত দাবি পেশ করা হয়েছে আমি সবগুলোর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি। আমি ধুঁকে ধুঁকে মরে যাচ্ছি। আর পারছি না। আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন। আন্দোলন চালিয়ে যান। প্রয়োজনে আমি টাঙ্গাইল থেকে আবার আসবো। তবুও আমি এটার বিচার চাই।"
আরটিভি/ এসকেডি