রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৪০ পিএম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনের তালা খুলে দিয়েছেন। তবে তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ফলে কিছু শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।
একাডেমিক চাপ কম ও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। অনেক শিক্ষার্থী টার্ম ফাইনালের ছুটি শেষ করে এখনও ক্যাম্পাসে ফিরেনি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) রাতে বিজয়-২৪ হলে নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণ করার সময় ক্যান্টন কর্মী হাতেনাতে ধরা পড়ে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিন কর্মীর শাস্তি নিশ্চিত করা সহ তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষ বর্জন করে।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান এ্যামি বলেন, ‘যদিও আমার ক্যাম্পাস আমার জন্য খুবই প্রিয় একটি জায়গা কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রিয় জায়গাটির মধ্যেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক হলেও সত্য যে প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাসে আতঙ্ক নিয়ে থাকা লাগছিলো। তাই এই ছুটিতে বাড়ি আসতে পেরে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তটি আমি যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছি যেহেতু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে এবং তার কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখনো আমরা দেখিনি এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। উক্ত বিষয়ের যথাযথ শাস্তি না পাওয়ার আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্লাস/পরীক্ষায় ফিরে যাওয়ার মতো মানসিক পরিস্থিতিতে নেই এবং তাদের অভিভাবকরাও যথাযথ আস্থা বা ভরসা করতে পারছে না। আমরা এর শাস্তি দেখার পরই ক্লাসে ফিরতে চাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে একাধিক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেসব সভায় শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, তদন্ত কমিটি গঠন, সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল, ছাত্রী হলে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ, ক্যান্টিন পরিচালনায় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন এবং ভবিষ্যতে ওই দুই ছাত্রী হলে কোনো পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং ছাত্রী হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটার আরও নিরাপদ করার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। ভেন্টিলেটারে নন-ট্রান্সপারেন্ট (অস্বচ্ছ) গ্লাস স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার কোনো সুযোগ না থাকে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা হলে নিরাপদ ও স্বস্তিকর পরিবেশে বসবাস করুক।’
আরটিভি/এমএ