শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ , ১১:১৮ পিএম
পাহাড় থেকে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে যাওয়া বন্য শূকরের দলে থাকা একটি শাবককে শিকার করতে যাওয়া একটি অজগর (বার্মিজ প্রজাতির পাইথন) শূকরের দলের হামলায় আহত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল চারটার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
পরে অজগরটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেক বাইট অ্যাওয়ারনেস’ (থ্রিএসএ) নামে একটি সংগঠন উদ্ধার করে। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এটিকে গহিন পাহাড়ে অবমুক্ত করা হয়। অজগরটি প্রায় ১০ ফুট লম্বা। এর ওজন ১২ থেকে ১৫ কেজি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বাসার পেছনেই অজগরটিকে পাওয়া গেছে। বাসার লোকজন আমাকে জানালে আমি নিরাপত্তাপ্রহরীদের নিয়ে সেখানে যাই। একই সঙ্গে সাপ উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দেওয়া হয়। জায়গাটিতে প্রায়ই খাবারের খোঁজে ১৫ থেকে ২০টি বন্য শূকর একসঙ্গে নেমে আসে। আজও সম্ভবত খাবারের সন্ধানেই তারা সেখানে এসেছিল। পরে শাবককে উদ্ধারে অজগরের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সাপ উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জাহিদুল গণমাধ্যমকে বলেন, বন্য শূকরের হামলায় সাপটি আহত হয়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। নিরাপত্তাপ্রহরীদের সহায়তায় সাপটিকে উদ্ধার করি। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গহিন পাহাড়ে অবমুক্ত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ সাপ। এটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এদের প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, কচ্ছপের ডিম, সাপ, বন মুরগি, পাখি, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। সাপটি নিজের আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।
জোহরা মিলা বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফশিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ভবিষ্যতে কোনো বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে বন বিভাগ বা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে