হঠাৎ লোকালয়ে অজগর, মোবাইল হাতে জনতার ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার (কুড়িগ্রাম), আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৪৪ পিএম


হঠাৎ লোকালয়ে অজগর, মোবাইল হাতে জনতার ভিড়
ছবি: আরটিভি

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের চর কৃষামত ফুলবাড়ী এলাকায় ১০ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অনেকেই সাপটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে লোকালয়ের পাশে সাপটি দেখা গেলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, সকালে লোকজন হঠাৎ লোকালয়ের পাশে অজগরটি দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে স্থানীয়রা সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে আটক করে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বন বিভাগকে খবর দেন। অজগরটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। 

স্থানীয়রা জানান, এ এলাকায় এর আগে এত বড় অজগর সাপ কখনো দেখা যায়নি। সাপটি লম্বা হবে প্রায় ১০-১২ ফুট। ঘটনাটির পর শিশু ও নারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কুড়িগ্রাম জেলা বন বিভাগ জানায়, অজগর বাংলাদেশের সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। এ ধরনের সাপ দেখা গেলে বা উদ্ধার হলে সেটিকে আঘাত না করে দ্রুত বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত, যাতে নিরাপদে উদ্ধার করে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা যায়।

জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ১২ ফুট লম্বা অজগরটি উদ্ধার করেন। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে এটিকে রংপুর চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ সাপ। এটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এদের প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, কচ্ছপের ডিম, সাপ, বন মুরগি, পাখি, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। সাপটি নিজের আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।

জোহরা মিলা বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফশিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ভবিষ্যতে কোনো বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে বন বিভাগ বা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission