রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ১০:২২ পিএম
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পরিচালক (হিসাব) দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আসাদুজ্জামান-এর গবেষণাভিত্তিক গ্রন্থ ‘যুবসমাজের মানবিকতা: সংকট, বাস্তবতা ও সমাধান’ প্রকাশিত হয়েছে।
যবিপ্রবির ১০০ জন শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত প্রশ্নমালাভিত্তিক জরিপ ও গবেষণার ভিত্তিতে গ্রন্থটি রচিত। এতে বর্তমান যুবসমাজের মানবিক মূল্যবোধের অবস্থা, মানবিক সংকটের কারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের করণীয় বিষয়ে তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণা ও জ্ঞানচর্চাকে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে বইটির ডিজিটাল সংস্করণ স্থায়ী ডিওআই (DOI)-সহ আন্তর্জাতিক গবেষণা রিপোজিটরি জেনোডো (Zenodo)-তে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে গবেষক, শিক্ষার্থী ও আগ্রহী পাঠক দীর্ঘমেয়াদে বইটি নির্ভরযোগ্যভাবে উদ্ধৃতি ব্যবহার করতে পারবেন এবং বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ থাকছে।
বইটি সম্পর্কে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সময়ে আমাদের যুবসমাজের মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে জুলাই আন্দোলনের সময় এই তরুণরাই অসংখ্য মানবিকতা, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই দুই ভিন্ন বাস্তবতা আমাকে ভাবিয়েছে। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যবিপ্রবির ১০০ জন শিক্ষার্থীর ওপর ১১টি প্রশ্নের ভিত্তিতে একটি গবেষণা পরিচালনা করি।
তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে মানবিকতা ও সাহসিকতা এখনো রয়েছে, তবে তা অনেকাংশে সুপ্ত। একাডেমিক চাপ, সামাজিক পরিবর্তন ও মানসিক নানা কারণে সেই মানবিক গুণাবলির প্রকাশ কমে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা, এর কারণ এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়েই বইটি লেখা।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতাই একজন তরুণের প্রকৃত শক্তি। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। আমার বইটি শুধু একটি গবেষণাগ্রন্থ নয়; এটি বর্তমান যুবসমাজের মানবিক সংকট, এর কারণ এবং সম্ভাব্য সমাধানের একটি তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ। সচেতন নাগরিক, অভিভাবক, শিক্ষক, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও তরুণদের জন্য এটি কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, মানবাধিকার, মানবিক মূল্যবোধ ও যুব উন্নয়ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনা, গবেষণালব্ধ ফলাফল জনকল্যাণমূলক নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানো এবং এ বিষয়ে আরও গবেষণা, গ্রন্থ প্রকাশ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক প্রকল্পে কাজ করাই তার লক্ষ্য।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং আগ্রহী পাঠকদের বইটি পড়ে তাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।
আরটিভি/এমএম