images

ক্যাম্পাস

প্রতিবাদের মুখে রাবির বিলবোর্ড থেকে সাইদী-নিজামীর ছবি অপসারণ 

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ , ০৯:৪৩ পিএম

প্রতিবাদের মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ঐতিহ্যবাহী প্যারিস রোডে টাঙানো একটি প্রদর্শনী বিলবোর্ড থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত রাজনৈতিক নেতাদের ছবি অপসারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে বিতর্কিত বিলবোর্ডটি অক্ষত রেখেই সেখান থেকে আপত্তি ওঠা ছবিগুলো অপসারণের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

জানা গেছে, শুক্রবার ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ স্মরণে রাকসু’র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘নভো কালচার’-এর উদ্যোগে প্যারিস রোডে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্রমূলক বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়।

উক্ত বিলবোর্ডে যুদ্ধাপরাধের দায়ে আদালতে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছবি যুক্ত করা হয়েছিল। এ ছাড়া বিএনপির প্রয়াত নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রাক্তন সেনাকর্তা মেজর (অব.) বজলুল হুদার ছবিও প্রদর্শন করা হয়।

একই বিলবোর্ডে সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে বহুল আলোচিত সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ছবি সংযুক্ত ছিল। এছাড়া বিলবোর্ডের অন্য অংশে শাপলা চত্বরের ঘটনা, জুলাই আন্দোলন, লগি-বৈঠার তাণ্ডব, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, কোটা আন্দোলন ও ‘আয়নাঘর’ সম্পর্কিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল।

আরও পড়ুন
Lcopy

জুলাই অনিবার্য হয়ে গিয়েছিল বিগত ১৭ বছরের বঞ্চনার জন্য: রাবি উপাচার্য 

তবে বিচারে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদেয় প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রোববার দুপুরে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের কাছে অবিলম্বে এই বিলবোর্ড অপসারণের দাবি জানান। প্রক্টর অফিসে দাবিসংক্রান্ত সুরাহা না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এবং রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জানান, “শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রথমে আয়োজক রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে সংবেদনশীল ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি এতে রাজি না হওয়ায় পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়ন ও উদ্যোগে বিলবোর্ড থেকে আপত্তিকর অংশগুলো মুছে ফেলা হয়।”

সংশোধিত বিলবোর্ডে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি পুরোপুরি অপসারণ করে সেখানে কেবল সুখরঞ্জন বালী, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং মেজর (অব.) বজলুল হুদার ছবি রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। 

আরটিভি/ এসকেডি