রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই হঠাৎ করে আসা কোনো গনঅভ্যুত্থান না। জুলাই অনিবার্য হয়ে গিয়েছিল বিগত ১৭ বছরের লাঞ্চনা-বঞ্চনার জন্য। এই ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, ভিন্নমত সবকিছুই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এবং গনতন্ত্রহীনতার সর্বশেষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকাল ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই নিয়ে আমার এমন কিছু স্মৃতি আছে যা আমি কাউকে বলিনি আমার মনে হয় এখন তা বলা উচিত। খুন গুম হত্যার সংস্কৃতির কারণেই এই জুলাই সংগঠিত হয়েছিলো। জুলাই পরবর্তী সময়ে এসে এখন একটা গোষ্ঠী আবারো এমন ন্যারেটিভ দাড় করাতে চাচ্ছে যা কখনোই কাম্য নয়। ৭১ কে কুক্ষিগত করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ যেমন শেষ হয়ে গেছে একটা গোষ্ঠী যারা জুলাইকে কুক্ষিগত করতে চাচ্ছে তারাও একদিন শেষ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা অতিতেও কারো সাথে আপোষ করিনি বর্তমানেও করবো না। একটা আন্দোলন কার্যকর করতে যে সমন্বয় দরকার আমি নিজে সেটা করেছি। আমি আন্দোলনকারীদের বলেছিলাম তোমরা কখনো রাজপথ ছাড়বা না। আন্দোলনে বিভিন্ন বাহিনীর লোকেরা যখন আমাকে হুমকি দিয়েছিলো তখন আমার স্ত্রী আমার হাত ধরে কান্না করেছিলো তোমার কিছু হয়ে গেলে আমার পরিবারের কি হবে।
তিনি বলেন, আজ আমরা এইসব কথা বলিনা বলে আমাদের ফ্যাসিবাদের দোসর বলে দোসর বলে ট্যাগ দেওয়া হয়। জুলাইয়ের পর একটা গোষ্ঠী বলেছিলো মক্কা বিজয়ের পর রাসুল (স:) সবাইকে মাফ করে দিয়েছিলো কিন্তু আমরা কখনোই ফ্যাসিস্টদের মাফ করবো না।
আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, বিগত সময়ে আমরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জুলাই আন্দোলনের সময় ৩ আগস্ট আমরা যখন বক্তৃতা করছিলাম, তখন সেই অনুষ্ঠানের ছবি দেখে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য ফোন করা হয়েছিল।
‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জুলাই আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছে। জুলাই আন্দোলন একদিনে সফল হয়নি। এ আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশীদ, প্রধান আলোচক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম রাবির সভাপতি ড. মো. গোলাম সাদিকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ
আরটিভি/এসআর




