images

ক্যাম্পাস / শিক্ষা

ঐক্যবদ্ধ না হলে ফের ফ্যাসিস্টের আগমন ঘটতে পারে: ইবি উপাচার্য

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ , ০৩:৩১ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, আমরা যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো ঐক্যবদ্ধ না থাকি এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ না হই, তাহলে বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিস্টের আগমন ঘটতে পারে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা দেখেছি, সেই যুদ্ধের কৃতিত্ব কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল নিজেদের বলে দাবি করেছে। এর ফলে দেশে বিভাজন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ বারবার সংকটের মুখে পড়েছে।

জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ ছিল না, মতপার্থক্য ছিল না। আমাদের রক্তের রংও আলাদা ছিল না। আমরা যদি সেই ঐক্য ধরে রাখতে না পারি এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ না হই, তাহলে বাংলাদেশের সামনে আবারও ফ্যাসিস্টের আগমনের আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন
Web-Image

আমাদের ভেতরের বিভেদ দেখেই ফ্যাসিবাদীরা মুচকি হাসছে: রাবি উপাচার্য

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমরা দেখছি, ফ্যাসিস্টরা বিভিন্ন রূপে, বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের নানা স্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাই আজকের দিনে আমাদের নতুন করে শপথ নিতে হবে—যেভাবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিস্টদের পরাজিত করেছিলাম, সেভাবেই বাংলাদেশকে ফ্যাসিস্টমুক্ত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল ও তাদের ছাত্রসংগঠনগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ৩৬ জুলাই অর্থাৎ আজকের ৫ আগস্টের সফলতার পেছনে অগণিত মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং তাদের ছাত্রসংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। রাজনৈতিক ব্যানারে আন্দোলন শুরু হলে হয়তো এটি সফল হতো না। কৌশলগত কারণে রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনগুলো সামনে না থাকলেও নেপথ্যে তাদের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


আরটিভি/জেএমএ