ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

আমাদের ভেতরের বিভেদ দেখেই ফ্যাসিবাদীরা মুচকি হাসছে: রাবি উপাচার্য

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস (৫ আগস্ট, ২০২৬) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম । ছবি: আরটিভি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের ভেতরের বিভেদ দেখেই ফ্যাসিবাদীরা মুচকি হাসছে। তাই জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নাগরিকের এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যা বিভাজন সৃষ্টি করে বা জুলাইয়ের চেতনাকে দুর্বল করে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে, কিন্তু তার পুনরুত্থানের সুযোগ যেন আমরা সৃষ্টি না করি। আমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলেই ফ্যাসিবাদীরা মুচকি হাসে। তাই ঐক্যবদ্ধ থেকে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে ফ্যাসিবাদ কখনো ফিরে আসবে না। ভবিষ্যতেও যেন কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে, সে জন্য আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত যোদ্ধাদের ত্যাগ যেন কখনো বৃথা না যায়। আজ (৫ আগস্ট) আহত জুলাই যোদ্ধাদের বক্তব্যে যে প্রত্যাশা ও উৎকণ্ঠা ফুটে উঠেছে, তা আমাদের সবার উপলব্ধি করা উচিত। ঐক্য, গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের মধ্য দিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব।

আরও পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের অংশীদারত্বের প্রসঙ্গ তুলে উপাচার্য বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা আছেন, সবাই জুলাইয়ের অংশীদার। কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠন জুলাইয়ের একমাত্র দাবিদার নয়।

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হয়। যারা এ আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে সিনেট ভবনে জুলাই আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধন করেন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যরা।

পরে সকাল ১০টায় সিনেট ভবনের সামনে শিক্ষক, আবাসিক শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা ও বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।

সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে মুক্তমঞ্চে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রং-তুলিতে মুক্ত স্বদেশ’ শীর্ষক শিল্পশিবিরের উদ্বোধন করা হয়।

এছাড়া বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হলের কক্ষে ‘সুইসাইড নোট' রেখে নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থী, থানায় জিডি
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে হলের সামনে থেকে বাসে ওঠেন মোহাইমিনুল। এরপর থেকেই তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। 
হলের কক্ষে ‘সুইসাইড নোট' রেখে নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থী, থানায় জিডি
আল্টিমেটাম পার হওয়ায় উপাচার্যকে তালাবদ্ধ করলেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য ভবনের ভেতরে রেখেই ভবনের ফটকে তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর তারা এ পদক্ষেপ নেন। এর আগে, চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। পরে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন। উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে সেটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ফটকে তালা দেওয়া এবং বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্য ভবনের ভেতরের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘তালা, তালা, তালা হবে, ভিসি ভবন তালা হবে’ এবং ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে টানা ২০ দিন ধরে চুয়েটে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আরটিভি/এসকে
আল্টিমেটাম পার হওয়ায় উপাচার্যকে তালাবদ্ধ করলেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা
প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ নতুন উপাচার্যের
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ নতুন উপাচার্যের
ঢাবি ভিসির প্রতীকী দায়িত্বে এইচএসসি পড়ুয়া শীতল 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি হিসেবে একদিনের জন্য প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেছেন উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া শীতল। 
ঢাবি ভিসির প্রতীকী দায়িত্বে এইচএসসি পড়ুয়া শীতল 
হাবিপ্রবিতে তিন দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
দেশের সর্বোত্তরের স্থান বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের দীর্ঘ পদযাত্রা ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা অতিক্রম করে রোববার (১১ অক্টোবর) দিনাজপুরে প্রবেশ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ তারা হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) এসে পৌঁছান। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। বক্তব্যে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে দেশের সর্বোত্তরের স্থান বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে আমরা আমাদের এই ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ পদযাত্রা শুরু করেছি। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের কাছে আমরা এই বার্তা দিতে চাই যে, বিচারের দাবিতে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয় ১. আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা। ২. গণভোটে জনগণের দেওয়া ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রায় বাস্তবায়ন করা। ৩. জুলাই গণহত্যা, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ সমাবেশে তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তরুণেরা সব রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। সমাবেশ শেষে শহীদ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত এবং আন্দোলনকারীদের সুস্থতা ও নিরবচ্ছিন্ন পদযাত্রার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জাবের জানান, ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য জনসমর্থন তৈরি করে সরকারকে সহযোগিতা করা। তবে এ বিষয়ে কোনো টালবাহানা বা চক্রান্ত বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো চক্রান্ত হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের আরও জানান, দিনাজপুরের কর্মসূচি শেষ করে টেকনাফ অভিমুখে তাদের দীর্ঘ পদযাত্রা অব্যাহত থাকবে। আরটিভি/টিআর
হাবিপ্রবিতে তিন দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
আরও পড়ুন
১৮ বছর ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষুকে ভয় করিনি: সংস্কৃতিমন্ত্রী
ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা করছে ফ্যাসিবাদের দোসররা: ডিএনসিসি প্রশাসক
সমস্যা সমাধানে কাজ না করলে দ্বিতীয়বার সামনে আসবো না: রাবি উপাচার্য
ফ্যাসিবাদী আমলে আয়নাঘরের দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল: রাষ্ট্রপতি