বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০৫:০৯ পিএম
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ন্যানোমেটেরিয়ালস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মেটেরিয়ালস (নেম) ল্যাবের সঙ্গে দেশের পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণ, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বুধবার (৫ আগস্ট) যবিপ্রবিতে আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া পারস্পরিক সহযোগিতা’ বিষয়ক সেমিনার এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে যবিপ্রবির ন্যানোমেটেরিয়ালস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মেটেরিয়ালস (নেম) ল্যাবের সঙ্গে দেশের পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে তাদের প্রধান নির্বাহীরা এমওইউতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ ধরনের অংশীদারিত্ব শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী শিক্ষা, গবেষণা এবং কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যবিপ্রবির এই সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে আরও যুগোপযোগী করবে এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করবে।
ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উভয়ই লাভবান হবে বলে উল্লেখ করে যবিপ্রবির উপাচার্য বলেন, এই সমঝোতার ফলে তাত্ত্বিক শিক্ষা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমবে, যা শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাত—সবার জন্যই নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায়ই শিল্পখাতের আধুনিক প্রযুক্তি ও কর্মপরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী তাদের কারিকুলাম সংস্কার করতে পারবে এবং যৌথ গবেষণার জন্য অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা লাভ করবে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দক্ষ ও প্রস্তুত মানবসম্পদ নিয়োগের সুযোগ পাবে, যা তাদের প্রশিক্ষণ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি একাডেমিক গবেষণার ফলাফল কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়িক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।
যবিপ্রবির নেম ল্যাবের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ফেয়ারমেট কেমিক্যাল লিমিটেড, রাখি কসমেটিকস অ্যান্ড কনজ্যুমার প্রোডাক্টস, লুমিনাস গ্রুপ লিমিটেড, নর্দান এগ্রো সার্ভিস লিমিটেড এবং রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) গ্রিন বায়োটেক টিস্যু কালচার ল্যাব (জিবিটিসিএল)। এছাড়া আরও ৫২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেম ল্যাবের সমঝোতা স্মারক দ্রুতই স্বাক্ষরিত হবে বলে জানান নেম ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসাইন খান।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, নেম ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসাইন খান, ফেয়ারমেট কেমিক্যাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জি. দেবাশীস বড়ুয়া, রাখি কসমেটিকস অ্যান্ড কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের সিইও ভিক্টর সাহা, লুমিনাস গ্রুপ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিব হোসাইন, নর্দান এগ্রো সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক সাকিব ফরহাদ, যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. আব্দুর রহিমসহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
আরটিভি/টিআর