মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ , ১২:৪৫ পিএম
বলিউডের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। মাত্র ১২৫ রুপির মাসিক বেতনের এক সাধারণ রেলকর্মী থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের আইকনিক তারকা। ১৯৬০ সালে বড় পর্দায় পা রাখা ধর্মেন্দ্র পরবর্তী ছয় দশকে নিজের ক্যারিশমা, পরিশ্রম ও অদম্য আগ্রহ দিয়ে বদলে দিয়েছেন বাণিজ্যিক হিন্দি সিনেমার ভাষা। ৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত এই অভিনেতা রেখে গেলেন এক কিংবদন্তি উত্তরাধিকার-যা বলিউডকে সমৃদ্ধ করেছে চরিত্র, গল্প আর তারকাখ্যাতির এক স্বর্ণযুগে। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
অভিনয়ে আসার আগে ধর্মেন্দ্র ছিলেন রেলওয়ের কেরানি, মাসিক বেতন মাত্র ১২৫ রুপি। ১৯৫৮ সালে ফিল্মফেয়ার ‘নিউ ট্যালেন্ট কনটেস্ট’ জিতে প্রথম মুম্বাইয়ে আসেন তিনি। ১৯৬০ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ছবি ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’র জন্য তিনি পারিশ্রমিক পান মাত্র ৫১ রুপি। কিন্তু সেই ক্ষুদ্র শুরুই তাকে নিয়ে যায় এক অসাধারণ যাত্রাপথে-যেখানে অপেক্ষা করছিল তুমুল জনপ্রিয়তা, অসংখ্য হিট ছবি এবং অগণিত ভক্ত।
১৯৬১ সালে ‘শোলা অউর শবনম’ দিয়ে প্রথম বাণিজ্যিক সাফল্যের পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি ধর্মেন্দ্রকে। ৭০-এর দশকে পৌরুষদীপ্ত, শক্তিমান চরিত্রে অভিনয় করে তিনি পান ‘হি-ম্যান অব হিন্দি সিনেমা’র খেতাব।

‘আয়া সাওন ঝুম কে’, ‘ইয়াকিন’, ‘পেয়ার হি পেয়ার’, ‘আদমি অউর ইনসান’-এক বছরে একাধিক হিট ছবি উপহার দিয়ে নতুন তারকা রাজেশ খান্নার উত্থানের সময়ও নিজের অবস্থান ধরে রাখেন তিনি।
১৯৬৪ সালের ‘আয়ি মিলান কি বেলা’তে ধূসর চরিত্রে অভিনয় করে প্রমাণ করেন তিনি শুধু রোমান্টিক বা অ্যাকশন হিরো নন-জটিল চরিত্রেও সমান সফল। পরে ‘চুপকে চুপকে’–র মতো কমেডি থেকে ‘জনি গাদ্দার’–এর মতো আধুনিক থ্রিলার-সব ঘরানাই কাঁপিয়েছেন।

মোহাম্মদ রফি তার জন্য গেয়েছেন শতাধিক গান-যা সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে আজও অমূল্য রসদ।
৭০–এর দশকে হেমা মালিনীর সঙ্গে তার জুটি ছিল বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি। ‘তুম হাসিন ম্যায় জওয়ান’ থেকে ‘সীতা অউর গীতা’, ‘শোলে’-ত্রিশটিরও বেশি ছবিতে পর্দা কাঁপিয়েছেন তারা। বাস্তব জীবনে সম্পর্ক গোপন রাখা, ধর্মান্তর-সব মিলিয়ে তাদের প্রেমকাহিনি ছিল রূপকথার মতো আলোচিত।
১৯৭৫ সালের ক্ল্যাসিক ‘শোলে’-তে তিনি চাইলে রাখতে পারতেন ‘ঠাকুর’ চরিত্রটি। কিন্তু হেমার বিপরীতে অভিনয়ের জন্য বেছে নেন ‘বীরু’। সেই সিদ্ধান্তই তাকে দিয়েছে বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় অভিনয়গুলোর একটি।

সানি দেওল ও ববি দেওল উভয়ের সফল ক্যারিয়ারে তার অবদান অনস্বীকার্য। ‘আপনে’, ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’-তে তিন প্রজন্মের রসায়ন ছিল দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। সানি দেওলের সফল ছবি ‘ঘায়েল’–এর প্রযোজকও ছিলেন তিনি।
কিছু বিরতির পর ২০০০–এর দশকে ‘লাইফ ইন আ... মেট্রো’ ও ‘জনি গাদ্দার’–এ অভিনয় করে প্রমাণ করেন-সত্যিকারের তারকা কখনও পুরোনো হন না, বরং সময়ের সঙ্গে আরও পরিণত হন।

প্রয়াণের দিনই প্রকাশিত হয় তার শেষ ছবি ‘ইক্কিস’-এর প্রথম লুক। শ্রীরাম রাঘবনের পরিচালনায় তিনি অভিনয় করেছেন পরমবীর চক্রপ্রাপ্ত অরুণ খেতারপালের দাদার চরিত্রে। ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে বড়দিনে।
ব্যক্তিগত জীবনের অজানা-জানা
- জন্ম: ১৯৩৫, পাঞ্জাব
- আসল নাম: ধরম সিং দেওল
- প্রথম স্ত্রী থেকে দুই কন্যা: বিজেতা ও আজেতা
- বৈজন্তী ফিল্মসের প্রযোজক
- ১০০ একর লোনাভালা ফার্মহাউসে কৃষিকাজে সময় কাটাতেন
- উর্দু কবিতা: শায়েরির প্রেমিক
- ‘গরম ধরম ধাবা’ রেস্তোরাঁ চেইনের উদ্যোক্তা
- ২০১১ সালে ‘ইন্ডিয়াজ গট ট্যালেন্ট’-এর বিচারক
২৪ নভেম্বর সকালে মুম্বাইয়ের জুহুতে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র। পবন হংসে সম্পন্ন হয় তার শেষকৃত্য। প্রায় ৩০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই কিংবদন্তি রেখে গেলেন অসংখ্য রূপালি স্মৃতি-যা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
আরটিভি/কেআই