মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৫:৫২ পিএম
মঞ্চের গ্ল্যামার বা সুন্দর মুখ মানেই কাজ পাওয়া সহজ? এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করলেন অভিনেত্রী ও প্রাক্তন পেজেন্ট প্রার্থী রুহি সিং। সম্প্রতি তিনি জানালেন, মানুষ মনে করে পেজেন্ট জেতা সব দরজা খুলে দেয়, কিন্তু এটা পুরোপুরি সত্য নয়। এটা কেবল একটি মুহূর্তের দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করে, কাজ নয়। এরপর থেকেই সব আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
রুহি বলেন, পেজেন্ট তার কেরিয়ারের জন্য একটি স্ট্রাকচারড রুট মাত্র, অভিনয় করার স্বপ্ন পূরণের জন্য। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা তাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে, তবে সঙ্গে এসেছে একটি লেবেল, যার বিরুদ্ধে তাকে লড়াই করতে হয়েছে। পেজেন্ট থেকে আসলে আপনি ‘মডেল ম্যাটেরিয়াল’, ‘অ্যাক্টিং ম্যাটেরিয়াল নয়’-এমন একটি স্টিরিওটাইপ সবসময় আছে। মানুষ আপনাকে একটি বাক্সে ঢুকিয়ে দিতে চায়, কিভাবে কথা বলেন, কেমন দেখাচ্ছেন, কেমন নিজেকে উপস্থাপন করছেন- সবই বিচার করা হয়। কিন্তু সেই বাক্সের সঙ্গে আমার অভিনয় এবং আমি যে ধরনের অভিনেতা হতে চাই, তার কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, মুম্বাইয়ের প্রতিটি বড় অভিনয় শিক্ষক তিনি দেখেছেন। অতুল মঙ্গিয়া, নীরজ কাবি, আবহা জোশি স্যার (এনএসডি থেকে); আমি থিয়েটার করেছি, চরিত্রের ওয়ার্কশপ করেছি- সবই। আমি শুধু সৎভাবে আমার কৌশল শিখতে চেয়েছিলাম। বাইরের মানুষদের কাছে সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু আমার মতো একজনের জন্য নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ নয়।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ তাকে নতুন পরিচিতি দিয়েছে। ‘রানওয়ে লুগাই’-এর মতো সিরিজ আমাকে নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এক্ষেত্রে আমি দেখাতে পেরেছি যে, আমার পারফরম্যান্স শুধুই ছবির ইমেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখন নির্মাতারা আরও খোলা মনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন, রুহি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওটিটি এর সুযোগ যেন এমনভাবে চলতে থাকে, কারণ আমার কাছে আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে।
একটি উদাহরণ তিনি উল্লেখ করেন, মাস্তি ৪, যেখানে তিনি অডিশন দেননি, তবে মূল চরিত্রটি পান কারণ নির্মাতারা তাকে শুধু পেজেন্ট গার্ল হিসেবেই দেখেননি। কমেডি এমন একটি ধরণ যেখানে স্ক্রিনে কমেডি টাইমিং শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমি জুহি চাওলা, পরেশ রাওয়াল, জনি লিভার, শ্রীদেবী- এর মতো অভিনেতাদের অধ্যয়ন করেছি এবং কিছু নতুন আনতে চেষ্টা করেছি, তিনি বলেন।
রুহি আরও জানান, অনেক কাজ হয়েছে যা পর্যাপ্ত দর্শকের কাছে পৌঁছায়নি। একজন অভিনেতার জন্য একটি চরিত্র ভেঙে দিয়ে সেটি পর্দায় দেখা একেবারেই আলাদা অভিজ্ঞতা। তারপর প্রতিক্রিয়া- পজিটিভ হোক বা নেগেটিভ, সবই নতুন চ্যালেঞ্জ।
আরটিভি/কেআই