images

বলিউড

ট্র্যাজেডি কুইন মীনা কুমারী, রূপালি পর্দার পেছনে এক বিষাদময় জীবন

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ০৭:৩৯ পিএম

ষাটের দশকের বলিউডে যে কজন অভিনেত্রী দর্শকহৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম মীনা কুমারী। পর্দার উজ্জ্বল উপস্থিতি, সুরেলা কণ্ঠ আর লেখনীর জাদুতে তিনি ছিলেন অনন্য। কিন্তু ‘ট্র্যাজেডি কুইন’ খ্যাত এই তারকার পর্দার বাইরের জীবন ছিল রূপালি জগতের ঠিক উল্টো, যন্ত্রণায় নীল আর বিষাদে ঘেরা।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে মীনা কুমারী প্রেমে পড়েন তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বয়সী পরিচালক কামাল আমরোহীর। কামাল ছিলেন বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা। ভালোবাসার মোহে আচ্ছন্ন মীনা সামাজিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে গোপনে কামালের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের পরেই শুরু হয় তার জীবনের চরম সংকটকাল।

আরও পড়ুন
jhjh

আজও অমলিন মান্না দে

তৎকালীন বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রীর বৈবাহিক জীবন ছিল কার্যত এক সোনার খাঁচা। স্বামী কামালের কড়া শাসনে তার ক্যারিয়ারে নেমে আসে অন্ধকার। মেকআপ রুমে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ থেকে শুরু করে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাড়ি ফেরার কড়া নির্দেশ, সব মিলিয়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। স্বামীর ইগো আর কঠোর নিয়মের বেড়াজালে বন্দি মীনা শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।

বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া মীনা কুমারী চরম বিষণ্নতায় ডুবে যান। অনিদ্রা কাটাতে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্র্যান্ডি নেওয়া শুরু করলেও দ্রুতই তা আসক্তিতে রূপ নেয়। অনিয়ন্ত্রিত মদ্যপানে তিনি আক্রান্ত হন লিভার সিরোসিসে। জীবনের শেষলগ্নে স্বামী কামাল সম্পর্ক জোড়া লাগাতে চাইলেও অভিমানে আর ফিরে তাকাননি তিনি। ১৯৭২ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে শিল্পের এই নক্ষত্র পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।

৩৮ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি ৯০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং ঝুলিতে পুরেছেন চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। ‘পাকিজা’, ‘সাহিব বিবি অউর গুলাম’ এবং ‘বৈজু বাওরা’ এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলো আজও তার অভিনয়শৈলীর সাক্ষ্য দেয়। মৃত্যুর পর তার ডায়েরি ও কবিতাগুলো বিখ্যাত গীতিকার গুলজারের সম্পাদনায় ‘তানহা চাঁদ’ নামে প্রকাশিত হয়, যা আজও পাঠকদের হৃদয়ে বিরহের সুর তোলে।

মীনা কুমারী চলে গেছেন, কিন্তু তার জীবনের বিষাদ আর পর্দার অমর সৃষ্টিগুলো তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

আরটিভি/এমআই