ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আজও অমলিন মান্না দে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

খুব জানতে ইচ্ছে করে, তুমি কি সেই আগের মতোই আছো নাকি অনেক খানি বদলে গেছো -এমনই সব অসংখ্য কালজয়ী বাংলা গানের গায়ক কিংবদন্তি শিল্পী মান্না দে। উপমহাদেশের সংগীত অঙ্গনের উজ্জ্বল এ নক্ষত্রের আজ ১০৭তম জন্মবার্ষিকী।

১৯১৯ সালের ১ মে আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সেরা সংগীতশিল্পী ও সুরকার মান্না দে। তার আসল নাম প্রবোধচন্দ্র দে হলেও বিশ্বে তিনি পরিচিত পান মান্না দে নামেই।

সংগীতপ্রেমী পরিবারে জন্ম হওয়ায় ছোটবেলাতেই গানের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয় মান্না দে-র। সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয় তার ছোট কাকা প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী কৃষ্ণচন্দ্র দে’র কাছে। সেই সময় মান্না দে’র কাকার কাছে গান শিখতে আসতেন দবীর খাঁ, শচীন দেব বর্মণ, পংকজ কুমার মল্লিকের মতো বাঘা বাঘা গায়কেরা। কাকা যখন গান গাইতেন আর শেখাতেন তখন মনোযোগ দিয়ে শুনতেন মান্না দে।

গানের প্রতি ঝোঁক থাকলেও মান্না দে কখনও গায়ক হতে চাননি। বরং খেলাধুলায় বেশি আগ্রহ থাকায় কখনও শিখেছিলেন কুস্তি। কখনও হতে চেয়েছিলেন ফুটবলার। আর পরিবার চেয়েছিলেন লেখাপড়া শিখে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হোক মান্না দে।

কিন্তু কাকার মতো সুরের খেলা তার জীবনে জড়িয়ে যায়। যখন মান্না দে স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়তেন তখন কলেজের অফ পিরিয়ডগুলোই তাকে অজান্তে টেনে নিয়ে যায় গানের দিকে। অফ পিরিয়ডে কমনরুমে সাহেবি কলেজের বন্ধু-বান্ধব, ছাত্ররা যখন কাপ-পিরিচ বাজিয়ে ইংরেজি গান গাইতেন তখন কৃষ্ণ দে-র ভাতিজা হিসেবে শুনে শুনে শেখা কাকার গান গেয়ে উঠতেন মান্না। কখনও গাইতেন শচীন দেব বর্মণের গানও। এভাবেই কলেজে গায়ক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

বন্ধুরাই একদিন হঠাৎ মান্না দে-র নাম আন্তঃকলেজ গানের প্রতিযোগিতায় দিয়ে দেন। প্রতিযোগিতায় ভালো করার জন্য কাকাই তালিম দেন। প্রথম দুই বছরেই সবগুলো বিভাগে প্রথম হন। পুরস্কার হিসেবে পান একটা রূপার তানপুরা। এ তানপুরাই মান্নাকে নিয়ে আসে গানের জগতে।

১৯৪২ সালে ছোট কাকার সঙ্গে প্রথম বোম্বে অর্থাৎ বর্তমান মুম্বাই যান মান্না দে। শুরুতে কাকার সহকারী হিসেবে কাজ করেন, পরে কাজ শেখেন শচীন দেব বর্মণের অধীনে। ধীরে ধীরে নিজস্ব দক্ষতায় স্বনামধন্য গীতিকার ও সুরকারদের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন।

১৯৪৩ সালে ‘তামান্না’ চলচ্চিত্রে গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতসহ ভিন্ন ভাষায় প্রায় ৩৫০০-এর বেশি গান গেয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে কেরালার মেয়ে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী সুলোচনা কুমারনকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে দুই কন্যা, সুরমা ও সুমিতা। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন মান্না দে। প্রায় পঞ্চাশ বছর মুম্বাইয়ে কাটানোর পর জীবনের শেষ অধ্যায় কাটান বেঙ্গালুরুর কালিয়াননগরে।

ক্যারিয়ারে বাংলা, হিন্দি, ভোজপুরি, গুজরাটি, পাঞ্জাবী, অসমিয়া মগধি, মৈথিলীসহ ২৪ ভাষায় অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। মান্না দে'র গানে ফুটে উঠেছে মানুষের জীবনের নানা বৈচিত্র্য। তার গানে শুধু সুরের বিন্যাস নয়, জীবনের রঙিন উপাখ্যান- কখনও দর্শন, কখনও প্রেম, কখনও বিরহ আবার কখনও প্রতিফলিত হয়েছে নিঃসঙ্গতার মৃদু প্রতিধ্বনি।

সংগীতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭১ সালে ভারত সরকারের পদ্মশ্রী, ২০০৫ সালে পদ্মভূষণ, ২০০৭ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ঘরে তোলেন মান্না দে। এছাড়াও চারটি জাতীয় পুরস্কার, রবীন্দ্রভারতী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানজনক ডি–লিট, আলাউদ্দিন খাঁ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

কোটি ভক্তের হৃদয়ে গায়কের কণ্ঠ আজও বাংলা ও ভারতীয় সংগীতকে সমৃদ্ধ করছে এক অনন্য উচ্চতায়। মান্না দে-র কালজয়ী গানের মধ্যে রয়েছে ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা’, ‘এই কুলে আমি, আর ওই কুলে তুমি’, ‘কথা দাও আবার আসবে’, ‘সেই তো আবার কাছে এলে’, ‘আবার হবে তো দেখা’, ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’, ‘কত দিন দেখেনি তোমায়’, ‘যদি কাগজে লিখো নাম’, ‘তুমি নিজের মুখে বললে যেদিন সবই তোমার অভিনয়’ ইত্যাদি।

আরও পড়ুন

২০১২ সালে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ২০১৩ সালেই শারীরিক জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়েন মান্না দে। হাসপাতালের কেবিনে প্রিয় স্ত্রীর ছবি রেখে অসুস্থ অবস্থাতেই তার জন্য চারটি গান লেখেন। স্ত্রীর স্মরণে একটা আ্যলবাম তৈরি করতে চাওয়া গায়ক প্রায়ই বলতেন, ‘আর বাঁচতে ইচ্ছা করে না। সুলোচনা আমার পথ চেয়ে বসে আছে’। স্ত্রী মৃত্যুর এক বছরের মাথাতেই ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর জীবনখাতার সব হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে কোটি কোটি ভক্তদের কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন এই কিংবদন্তি।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মান্যতাকে সিঁদুর পরিয়ে আলোচনায় সঞ্জয় দত্ত
মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় লালবাগচা রাজা মণ্ডপে স্ত্রী মান্যতা দত্তকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়ে আলোচনায় বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত।
মান্যতাকে সিঁদুর পরিয়ে আলোচনায় সঞ্জয় দত্ত
মারা গেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জেমস
অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘দ্য স্টিং’-এর অভিনেতা জেমস স্লোয়ান আর নেই। গত ২২ জুলাই নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
মারা গেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জেমস
আরটিভিতে আজ (২৩ সেপ্টেম্বর) যা দেখবেন
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩। একনজরে জেনে নিন আরটিভির আজকের আয়োজন—
আরটিভিতে আজ (২৩ সেপ্টেম্বর) যা দেখবেন
মা হারালেন রানি মুখার্জি
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে রানি মুখার্জির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যশ রাজ ফিল্মস। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
মা হারালেন রানি মুখার্জি
অভিনেতা রিফাত চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল
কবি ও একসময়ের দর্শকপ্রিয় নাট্যাভিনেতা রিফাত চৌধুরী গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ইউনিট-৩-এর দশম তলার ১০৩ নম্বর কেবিনে রয়েছেন এই অভিনেতা।  জানা গেছে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে রিফাত চৌধুরী জানান, এখন তিনি বেড রেস্টে রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা সব রিপোর্ট ও তার ফাইল পর্যালোচনা করে এরপর মূল চিকিৎসা শুরু করবেন।  হাসপাতালে রিফাতের পাশে শুরু থেকেই রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও কবি অমিতাভ অরণ্য। তিনি জানান, অভিনেতার বেশিরভাগ পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বুধবার  (২৩ সেপ্টেম্বর) আরও দুটি পরীক্ষা করানোর কথা রয়েছে। এসব পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে। মূলত পা ও কোমরের সমস্যায় ভুগছেন রিফাত চৌধুরী। অসুস্থতার কারণে তিনি ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারছেন না। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে বেড না পেয়ে তাকে দুই দিন ফ্লোরে থাকতে হয়েছিল। পরে বেডের ব্যবস্থা হলেও তার চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়।  অভিনেতার অসুস্ততার বিষয়টি জানার পর শোবিজ অঙ্গনে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। পাশাপাশি অভিনয়শিল্পী সংঘ ও শোবিজের কয়েকজন তারকা তার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।  অমিতাভ অরণ্য জানিয়েছেন, রিফাতের নিজের কোনো ব্যাংক বা বিকাশ অ্যাকাউন্ট নেই। তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতার অর্থ তার মাধ্যমে রিফাতের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা জানানো হয়েছে। আরটিভি/এসআর
অভিনেতা রিফাত চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল
আরও পড়ুন
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বঙ্গবীর সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ
সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকীতে ‘ভাঙা প্রেম অশেষ বিশেষ’
নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন স্মরণে শিল্পকলা ও জাবিতে তিন দিনব্যাপী উৎসব
খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইবিতে দোয়া মাহফিল