ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আজও অমলিন মান্না দে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

খুব জানতে ইচ্ছে করে, তুমি কি সেই আগের মতোই আছো নাকি অনেক খানি বদলে গেছো -এমনই সব অসংখ্য কালজয়ী বাংলা গানের গায়ক কিংবদন্তি শিল্পী মান্না দে। উপমহাদেশের সংগীত অঙ্গনের উজ্জ্বল এ নক্ষত্রের আজ ১০৭তম জন্মবার্ষিকী।

১৯১৯ সালের ১ মে আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সেরা সংগীতশিল্পী ও সুরকার মান্না দে। তার আসল নাম প্রবোধচন্দ্র দে হলেও বিশ্বে তিনি পরিচিত পান মান্না দে নামেই।

সংগীতপ্রেমী পরিবারে জন্ম হওয়ায় ছোটবেলাতেই গানের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয় মান্না দে-র। সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয় তার ছোট কাকা প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী কৃষ্ণচন্দ্র দে’র কাছে। সেই সময় মান্না দে’র কাকার কাছে গান শিখতে আসতেন দবীর খাঁ, শচীন দেব বর্মণ, পংকজ কুমার মল্লিকের মতো বাঘা বাঘা গায়কেরা। কাকা যখন গান গাইতেন আর শেখাতেন তখন মনোযোগ দিয়ে শুনতেন মান্না দে।

গানের প্রতি ঝোঁক থাকলেও মান্না দে কখনও গায়ক হতে চাননি। বরং খেলাধুলায় বেশি আগ্রহ থাকায় কখনও শিখেছিলেন কুস্তি। কখনও হতে চেয়েছিলেন ফুটবলার। আর পরিবার চেয়েছিলেন লেখাপড়া শিখে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হোক মান্না দে।

কিন্তু কাকার মতো সুরের খেলা তার জীবনে জড়িয়ে যায়। যখন মান্না দে স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়তেন তখন কলেজের অফ পিরিয়ডগুলোই তাকে অজান্তে টেনে নিয়ে যায় গানের দিকে। অফ পিরিয়ডে কমনরুমে সাহেবি কলেজের বন্ধু-বান্ধব, ছাত্ররা যখন কাপ-পিরিচ বাজিয়ে ইংরেজি গান গাইতেন তখন কৃষ্ণ দে-র ভাতিজা হিসেবে শুনে শুনে শেখা কাকার গান গেয়ে উঠতেন মান্না। কখনও গাইতেন শচীন দেব বর্মণের গানও। এভাবেই কলেজে গায়ক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

বন্ধুরাই একদিন হঠাৎ মান্না দে-র নাম আন্তঃকলেজ গানের প্রতিযোগিতায় দিয়ে দেন। প্রতিযোগিতায় ভালো করার জন্য কাকাই তালিম দেন। প্রথম দুই বছরেই সবগুলো বিভাগে প্রথম হন। পুরস্কার হিসেবে পান একটা রূপার তানপুরা। এ তানপুরাই মান্নাকে নিয়ে আসে গানের জগতে।

১৯৪২ সালে ছোট কাকার সঙ্গে প্রথম বোম্বে অর্থাৎ বর্তমান মুম্বাই যান মান্না দে। শুরুতে কাকার সহকারী হিসেবে কাজ করেন, পরে কাজ শেখেন শচীন দেব বর্মণের অধীনে। ধীরে ধীরে নিজস্ব দক্ষতায় স্বনামধন্য গীতিকার ও সুরকারদের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন।

১৯৪৩ সালে ‘তামান্না’ চলচ্চিত্রে গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতসহ ভিন্ন ভাষায় প্রায় ৩৫০০-এর বেশি গান গেয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে কেরালার মেয়ে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী সুলোচনা কুমারনকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে দুই কন্যা, সুরমা ও সুমিতা। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন মান্না দে। প্রায় পঞ্চাশ বছর মুম্বাইয়ে কাটানোর পর জীবনের শেষ অধ্যায় কাটান বেঙ্গালুরুর কালিয়াননগরে।

ক্যারিয়ারে বাংলা, হিন্দি, ভোজপুরি, গুজরাটি, পাঞ্জাবী, অসমিয়া মগধি, মৈথিলীসহ ২৪ ভাষায় অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। মান্না দে'র গানে ফুটে উঠেছে মানুষের জীবনের নানা বৈচিত্র্য। তার গানে শুধু সুরের বিন্যাস নয়, জীবনের রঙিন উপাখ্যান- কখনও দর্শন, কখনও প্রেম, কখনও বিরহ আবার কখনও প্রতিফলিত হয়েছে নিঃসঙ্গতার মৃদু প্রতিধ্বনি।

সংগীতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭১ সালে ভারত সরকারের পদ্মশ্রী, ২০০৫ সালে পদ্মভূষণ, ২০০৭ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ঘরে তোলেন মান্না দে। এছাড়াও চারটি জাতীয় পুরস্কার, রবীন্দ্রভারতী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানজনক ডি–লিট, আলাউদ্দিন খাঁ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

কোটি ভক্তের হৃদয়ে গায়কের কণ্ঠ আজও বাংলা ও ভারতীয় সংগীতকে সমৃদ্ধ করছে এক অনন্য উচ্চতায়। মান্না দে-র কালজয়ী গানের মধ্যে রয়েছে ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা’, ‘এই কুলে আমি, আর ওই কুলে তুমি’, ‘কথা দাও আবার আসবে’, ‘সেই তো আবার কাছে এলে’, ‘আবার হবে তো দেখা’, ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’, ‘কত দিন দেখেনি তোমায়’, ‘যদি কাগজে লিখো নাম’, ‘তুমি নিজের মুখে বললে যেদিন সবই তোমার অভিনয়’ ইত্যাদি।

আরও পড়ুন

২০১২ সালে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ২০১৩ সালেই শারীরিক জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়েন মান্না দে। হাসপাতালের কেবিনে প্রিয় স্ত্রীর ছবি রেখে অসুস্থ অবস্থাতেই তার জন্য চারটি গান লেখেন। স্ত্রীর স্মরণে একটা আ্যলবাম তৈরি করতে চাওয়া গায়ক প্রায়ই বলতেন, ‘আর বাঁচতে ইচ্ছা করে না। সুলোচনা আমার পথ চেয়ে বসে আছে’। স্ত্রী মৃত্যুর এক বছরের মাথাতেই ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর জীবনখাতার সব হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে কোটি কোটি ভক্তদের কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন এই কিংবদন্তি।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শুটিং সেটে গুরুতর আহত অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী
নাটকের শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। হাসপাতালের বেডে শুয়ে একটি দৃশ্যের শুটিং করার সময় ক্যামেরাসহ তার মুখের ওপর পড়ে যান নাটকের চিত্রগ্রাহক (ডিওপি)।
শুটিং সেটে গুরুতর আহত অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী
অভিনেতা সমু চৌধুরীকে বেধড়ক পিটুনি, যা জানা গেল
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও নাট্যশিল্পী সমু চৌধুরী। ময়লা-আবর্জনা ফেলা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাকে লাঠিপেটা করে রক্তাক্ত জখম করেছে। গুরুতর আঘাতের কারণে তার মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে।
অভিনেতা সমু চৌধুরীকে বেধড়ক পিটুনি, যা জানা গেল
নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়ে দিলেন ‘স্পাইডার-ম্যান’ তারকা
প্রাক্তন স্ত্রীর নতুন জীবনের শুরুতে পাশে দাঁড়ালেন হলিউড অভিনেতা টোবি ম্যাগুয়ার। ‘স্পাইডার-ম্যান’ খ্যাত এই অভিনেতা নিজেই তার প্রাক্তন স্ত্রী জেনিফার মেয়ারের বিয়ের অনুষ্ঠানে বিশেষ দায়িত্ব পালন করেছেন।  এমনকি নবদম্পতির প্রথম চুম্বনের মুহূর্তেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি বিয়ের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর হাওয়াইয়ের ফোর সিজনস রিসোর্ট লানাইয়ে ব্যবসায়ী জিয়োফ্রি ওগুনলেসির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জেনিফার। জিয়োফ্রি নাইজেরিয়ার প্রভাবশালী আইনজীবী ও বিনিয়োগকারী আদেবায়ো ওগুনলেসির ছেলে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টোবি ও জেনিফারের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন করে সংসার শুরু করলেন জেনিফার। জেনিফারের বিয়েতে হলিউডের একাধিক পরিচিত মুখের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন র‍্যাচেল জো, কোর্টনি কক্স, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ও তার প্রেমিকা ভিত্তোরিয়া চেরেত্তি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও তার স্ত্রী লরেন সানচেজ বেজোস। টোবি ম্যাগুয়ার ও জেনিফার মেয়ার ২০০৭ সালে বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর ২০১৬ সালের অক্টোবরে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তারা। পরে ২০২০ সালে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন জেনিফার। এই সাবেক দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পরও প্রাক্তন স্ত্রীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে টোবির এমন উপস্থিতি এবং বিয়ের আয়োজনে তার বিশেষ ভূমিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের অধ্যায় শেষ হলেও সাবেক সঙ্গীর বিশেষ দিনে তার পাশে থাকার বিষয়টি অনেকের নজর কেড়েছে। আরটিভি/এসআর
নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়ে দিলেন ‘স্পাইডার-ম্যান’ তারকা
আরটিভিতে আজ (১৩ অক্টোবর) যা দেখবেন
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩। একনজরে জেনে নিন আরটিভির আজকের আয়োজন—
আরটিভিতে আজ (১৩ অক্টোবর) যা দেখবেন
বৃহস্পতিবার নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন
ষাটের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরিচিত মুখ নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন
আরও পড়ুন
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বঙ্গবীর সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ
সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকীতে ‘ভাঙা প্রেম অশেষ বিশেষ’
নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন স্মরণে শিল্পকলা ও জাবিতে তিন দিনব্যাপী উৎসব
খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইবিতে দোয়া মাহফিল