ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

আজও অমলিন মান্না দে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

খুব জানতে ইচ্ছে করে, তুমি কি সেই আগের মতোই আছো নাকি অনেক খানি বদলে গেছো -এমনই সব অসংখ্য কালজয়ী বাংলা গানের গায়ক কিংবদন্তি শিল্পী মান্না দে। উপমহাদেশের সংগীত অঙ্গনের উজ্জ্বল এ নক্ষত্রের আজ ১০৭তম জন্মবার্ষিকী।

১৯১৯ সালের ১ মে আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সেরা সংগীতশিল্পী ও সুরকার মান্না দে। তার আসল নাম প্রবোধচন্দ্র দে হলেও বিশ্বে তিনি পরিচিত পান মান্না দে নামেই।

সংগীতপ্রেমী পরিবারে জন্ম হওয়ায় ছোটবেলাতেই গানের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয় মান্না দে-র। সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয় তার ছোট কাকা প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী কৃষ্ণচন্দ্র দে’র কাছে। সেই সময় মান্না দে’র কাকার কাছে গান শিখতে আসতেন দবীর খাঁ, শচীন দেব বর্মণ, পংকজ কুমার মল্লিকের মতো বাঘা বাঘা গায়কেরা। কাকা যখন গান গাইতেন আর শেখাতেন তখন মনোযোগ দিয়ে শুনতেন মান্না দে।

গানের প্রতি ঝোঁক থাকলেও মান্না দে কখনও গায়ক হতে চাননি। বরং খেলাধুলায় বেশি আগ্রহ থাকায় কখনও শিখেছিলেন কুস্তি। কখনও হতে চেয়েছিলেন ফুটবলার। আর পরিবার চেয়েছিলেন লেখাপড়া শিখে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হোক মান্না দে।

কিন্তু কাকার মতো সুরের খেলা তার জীবনে জড়িয়ে যায়। যখন মান্না দে স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়তেন তখন কলেজের অফ পিরিয়ডগুলোই তাকে অজান্তে টেনে নিয়ে যায় গানের দিকে। অফ পিরিয়ডে কমনরুমে সাহেবি কলেজের বন্ধু-বান্ধব, ছাত্ররা যখন কাপ-পিরিচ বাজিয়ে ইংরেজি গান গাইতেন তখন কৃষ্ণ দে-র ভাতিজা হিসেবে শুনে শুনে শেখা কাকার গান গেয়ে উঠতেন মান্না। কখনও গাইতেন শচীন দেব বর্মণের গানও। এভাবেই কলেজে গায়ক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

বন্ধুরাই একদিন হঠাৎ মান্না দে-র নাম আন্তঃকলেজ গানের প্রতিযোগিতায় দিয়ে দেন। প্রতিযোগিতায় ভালো করার জন্য কাকাই তালিম দেন। প্রথম দুই বছরেই সবগুলো বিভাগে প্রথম হন। পুরস্কার হিসেবে পান একটা রূপার তানপুরা। এ তানপুরাই মান্নাকে নিয়ে আসে গানের জগতে।

১৯৪২ সালে ছোট কাকার সঙ্গে প্রথম বোম্বে অর্থাৎ বর্তমান মুম্বাই যান মান্না দে। শুরুতে কাকার সহকারী হিসেবে কাজ করেন, পরে কাজ শেখেন শচীন দেব বর্মণের অধীনে। ধীরে ধীরে নিজস্ব দক্ষতায় স্বনামধন্য গীতিকার ও সুরকারদের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন।

১৯৪৩ সালে ‘তামান্না’ চলচ্চিত্রে গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতসহ ভিন্ন ভাষায় প্রায় ৩৫০০-এর বেশি গান গেয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে কেরালার মেয়ে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী সুলোচনা কুমারনকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে দুই কন্যা, সুরমা ও সুমিতা। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন মান্না দে। প্রায় পঞ্চাশ বছর মুম্বাইয়ে কাটানোর পর জীবনের শেষ অধ্যায় কাটান বেঙ্গালুরুর কালিয়াননগরে।

ক্যারিয়ারে বাংলা, হিন্দি, ভোজপুরি, গুজরাটি, পাঞ্জাবী, অসমিয়া মগধি, মৈথিলীসহ ২৪ ভাষায় অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। মান্না দে'র গানে ফুটে উঠেছে মানুষের জীবনের নানা বৈচিত্র্য। তার গানে শুধু সুরের বিন্যাস নয়, জীবনের রঙিন উপাখ্যান- কখনও দর্শন, কখনও প্রেম, কখনও বিরহ আবার কখনও প্রতিফলিত হয়েছে নিঃসঙ্গতার মৃদু প্রতিধ্বনি।

সংগীতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭১ সালে ভারত সরকারের পদ্মশ্রী, ২০০৫ সালে পদ্মভূষণ, ২০০৭ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ঘরে তোলেন মান্না দে। এছাড়াও চারটি জাতীয় পুরস্কার, রবীন্দ্রভারতী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানজনক ডি–লিট, আলাউদ্দিন খাঁ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

কোটি ভক্তের হৃদয়ে গায়কের কণ্ঠ আজও বাংলা ও ভারতীয় সংগীতকে সমৃদ্ধ করছে এক অনন্য উচ্চতায়। মান্না দে-র কালজয়ী গানের মধ্যে রয়েছে ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা’, ‘এই কুলে আমি, আর ওই কুলে তুমি’, ‘কথা দাও আবার আসবে’, ‘সেই তো আবার কাছে এলে’, ‘আবার হবে তো দেখা’, ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’, ‘কত দিন দেখেনি তোমায়’, ‘যদি কাগজে লিখো নাম’, ‘তুমি নিজের মুখে বললে যেদিন সবই তোমার অভিনয়’ ইত্যাদি।

আরও পড়ুন

২০১২ সালে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ২০১৩ সালেই শারীরিক জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়েন মান্না দে। হাসপাতালের কেবিনে প্রিয় স্ত্রীর ছবি রেখে অসুস্থ অবস্থাতেই তার জন্য চারটি গান লেখেন। স্ত্রীর স্মরণে একটা আ্যলবাম তৈরি করতে চাওয়া গায়ক প্রায়ই বলতেন, ‘আর বাঁচতে ইচ্ছা করে না। সুলোচনা আমার পথ চেয়ে বসে আছে’। স্ত্রী মৃত্যুর এক বছরের মাথাতেই ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর জীবনখাতার সব হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে কোটি কোটি ভক্তদের কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন এই কিংবদন্তি।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
১০ বছর বয়সে যৌন হয়রানির শিকার অভিনেত্রী, শোনালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
পর্দায় জনপ্রিয় মুখ, অভিনয় দিয়ে জয় করেছেন দর্শকের মন। তবে শৈশবের এক ভয়াবহ স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় ভারতীয় অভিনেত্রী সোনারিকা ভাদোরিয়াকে। মাত্র ১০-১১ বছর বয়সে একটি রেস্টুরেন্টে যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জীবনের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেত্রী। হিন্দি ধারাবাহিক ‘দেবো কে দেব মহাদেব’-এ পার্বতীর চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান সোনারিকা। এবার অভিনয়জীবনের বাইরে তার শৈশবের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, ছোটবেলায় এক পাতানো দাদাকে রাখি পরাতে গিয়েছিলেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে একটি রেস্টুরেন্টে যান। সেখানেই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সোনারিকার অভিযোগ, রেস্টুরেন্টের এক ম্যানেজার তাকে একটি দরজা থেকে অন্য দরজায় নিয়ে যাওয়ার সময় মাঝের অন্ধকার জায়গায় তার শরীরে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন। ওই ব্যক্তি তার বুকে হাত দিয়েছিলেন বলেও জানান অভিনেত্রী। হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনায় হতবাক হয়ে যান ছোট্ট সোনারিকা। তখন কী ঘটেছিল, তা বোঝার মতো বয়সও হয়নি তার। অভিনেত্রীর ভাষ্য, ঘটনার পর তিনি একেবারে চুপ হয়ে গিয়েছিলেন। প্রতিবাদ করা তো দূরের কথা, সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের কাউকেও বিষয়টি জানাননি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই ঘটনার ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারেন সোনারিকা। একসময় কৈশোরে মায়ের কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন। মেয়ের মুখে এমন অভিজ্ঞতার কথা শুনে ভেঙে পড়েন তার মা। এত দিন কেন বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন, তা জানতে চান তিনি। জবাবে সোনারিকা জানান, ঘটনার সময় তিনি বুঝতেই পারেননি তার সঙ্গে কী করা হয়েছিল। তবে বাবাকে এখনো বিষয়টি জানাননি অভিনেত্রী। তার আশঙ্কা, বাবা এই ঘটনা জানতে পারলে অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হবেন। এমনকি ওই ব্যক্তি জীবিত না থাকলেও তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে পারেন বলে মনে করেন সোনারিকা। উল্লেখ্য, ‘দেবো কে দেব মহাদেব’ ছাড়াও ‘তুম দেনা সাথ মেরা’, ‘পৃথ্বী বল্লভ’, ‘দাস্তান-এ-মোহব্বত: সলিম অনারকলী’ ও ‘ইশক মে মরজাবা’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন সোনারিকা ভাদোরিয়া। আরটিভি/এসকে
১০ বছর বয়সে যৌন হয়রানির শিকার অভিনেত্রী, শোনালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
আরটিভিতে আজ যা দেখবেন 
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩। একনজরে জেনে নিন আরটিভির আজকের আয়োজন—
আরটিভিতে আজ যা দেখবেন 
ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি, না ফেরার দেশে অভিনেতা
মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভারতের টেলিভিশন অভিনেতা অনুজ ঠাকুর। ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেতার পরিবার। গত ২৭ অক্টোবর শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি, না ফেরার দেশে অভিনেতা
আজ বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের জন্মদিন
বলিউডের ‘বাদশাহ’খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা শাহরুখ খানের জন্মদিন আজ। ১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সে হিসাবে আজ ৬১ বছরে পা রাখলেন বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই তারকা। টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ফৌজি’ ও ‘সার্কাস’-এর মাধ্যমে অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেন শাহরুখ। ১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা হিসেবে। ‘বাজিগর’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘দেবদাস’ ও ‘ভীর-জারা’র মতো সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকদের কাছে ‘কিং অব রোমান্স’ হিসেবে পরিচিতি পান শাহরুখ। তবে রোমান্টিক চরিত্রের বাইরেও নিজের অভিনয়দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ‘স্বদেশ’, ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’, ‘ডন’ সিরিজ, ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’-এর মতো সিনেমায় ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে পেয়েছেন দর্শকপ্রিয়তা। কাজ করেছেন যশ চোপড়া, করণ জোহর, সঞ্জয়লীলা বানসালি ও রাজকুমার হিরানির মতো খ্যাতিমান পরিচালকদের সঙ্গে। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে শাহরুখ খান শুধু বলিউডেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ভারত ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রয়েছে তার অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী। প্রতি বছর জন্মদিনে মুম্বাইয়ে তার বাসভবন ‘মান্নাত’-এর সামনে প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে ভিড় করেন হাজারো ভক্ত। ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী গৌরী খান এবং তিন সন্তান আরিয়ান, সুহানা ও আব্রামকে নিয়ে সময় কাটান এই অভিনেতা। অভিনয়ের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ড, বিনয়ী আচরণ ও পরিবারের প্রতি ভালোবাসার কারণেও ভক্তদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা উত্থান-পতন পেরিয়ে আজও নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন শাহরুখ খান। ৬১ বছর বয়সে এসেও অভিনয় ও তারকাখ্যাতিতে সমান উজ্জ্বল বলিউডের এই ‘বাদশাহ’। আরটিভি/এসকে
আজ বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের জন্মদিন
আরটিভিতে আজ যা দেখবেন 
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩। একনজরে জেনে নিন আরটিভির আজকের আয়োজন—
আরটিভিতে আজ যা দেখবেন 
আরও পড়ুন
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৭০তম জন্মবার্ষিকী আজ
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বঙ্গবীর সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ
সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকীতে ‘ভাঙা প্রেম অশেষ বিশেষ’
নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন স্মরণে শিল্পকলা ও জাবিতে তিন দিনব্যাপী উৎসব