মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:৪৯ এএম
আধুনিক সংখ্যাতত্ত্ব আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই মানুষ অঙ্ক কষতে পারত। এমনই প্রমাণ মিলেছে মেসোপটেমিয়ার প্রায় ৮,০০০ বছর পুরোনো একটি মাটির পাত্রে। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদল সম্প্রতি এই মাটির পাত্র পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছেন, পাত্রটির ওপরে আঁকা প্রায় ৭০০টি ফুলের পাপড়ির বিন্যাস জ্যামিতিক নিয়ম অনুযায়ী সাজানো। যা প্রাচীন অঙ্কের সাক্ষ্য বহন করে।
গবেষকরা বলছেন, এই পাত্রটি খ্রিস্টপূর্ব ৬,২০০ থেকে ৫,৫০০ সালের মধ্যে উত্তর মেসোপটেমিয়ার হালাফিয়ান সভ্যতার। এতে ফুলের পাপড়িগুলো ৪, ৮, ১৬, ৩২, ৬৪ সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে সাজানো ছিল। যা সংখ্যাতত্ত্বের আগে অ্যালগরিদমের প্রমাণ।
জার্নাল অফ ওয়ার্ল্ড প্রিহিস্টরি-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় জানানো হয়, সংখ্যার আবিষ্কার এক দিনে হয়নি এবং সম্ভবত একক স্থানে সীমাবদ্ধও নয়। মাটির পাত্রের এই নিদর্শন থেকে বোঝা যায়, মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে মানুষেরা লিখতে শেখার আগেই অঙ্কের জ্ঞান প্রয়োগ করত।
গবেষকরা আরও জানান, ঐতিহাসিকভাবে প্রাচীন মাটির পাত্রগুলোতে সাধারণত পশু কিংবা মানুষের ছবি থাকলেও, এই পাত্রে ফুলের জটিল ও সুশৃঙ্খল আকার আঁকা ছিল যা আগে দেখা যায়নি। এ থেকে স্পষ্ট হয়, প্রাচীন মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনে অঙ্কের ব্যবহার করত এবং তা শিল্পকলা ও নিদর্শনে ফুটিয়ে তুলত।
এই আবিষ্কার পুরাতত্ত্ব ও গণিত ইতিহাসে একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে অঙ্ক কষার প্রাথমিক জ্ঞান সভ্যতার গভীর ইতিহাসের অংশ।
সূত্র: আনন্দবাজার
আরটিভি/এসকে