মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ০১:১৭ পিএম
বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিতে যখন গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল ও ধানক্ষেত পানিতে ভরে ওঠে, তখন অনেকেই ঘরবন্দি থাকলেও কিছু প্রাণী যেন এই সময়ের অপেক্ষাতেই থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মাগুর মাছ।
মাগুর মাছ দেখতে সাধারণ হলেও এর জীবনধারা বেশ ব্যতিক্রমী। আঁশবিহীন কালচে-বাদামি দেহ এবং মুখের চারপাশে গোঁফের মতো শুঁড় এটিকে সহজেই চেনা যায়। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো এরা প্রয়োজনে পানির বাইরে ডাঙাতেও চলাচল করতে পারে।
বর্ষা এলেই কেন বের হয় মাগুর?
মাগুর মাছ সাধারণত হালকা বৃষ্টিতে সক্রিয় হয় না। কিন্তু যখন ভারী বর্ষণে খাল উপচে পানি মাঠে ছড়িয়ে পড়ে, তখন মাটির ওপর তৈরি হওয়া পাতলা পানির স্তর তাদের চলাচলের জন্য যথেষ্ট হয়ে ওঠে। এই সময়ই তারা আশ্রয় ছেড়ে নতুন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
বৈজ্ঞানিকভাবে এদেরকে “ওয়াকিং ক্যাটফিশ” বলা হয়, কারণ বুকের পাখনা ব্যবহার করে এরা সাপের মতো দেহ টেনে ডাঙায় চলতে পারে এবং কখনো কখনো একশ মিটার পর্যন্ত পথ অতিক্রম করতে সক্ষম।
ডাঙায় টিকে থাকার ক্ষমতা
মাগুর মাছের বিশেষ শ্বাসযন্ত্রের কারণে এটি সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে পারে। ফলে শরীর আর্দ্র থাকলে এরা পানির বাইরে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে সক্ষম হয় যা অধিকাংশ মাছের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।
রাতের বেলায়, বিশেষ করে বৃষ্টির পর ভেজা মাটিতে, এদের চলাচল বেশি দেখা যায়। অন্ধকার ও আর্দ্র পরিবেশ তাদের জন্য নিরাপদ পথ তৈরি করে।
কেন ধানক্ষেতে আসে মাগুর?
বর্ষাকালে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাগুর মাছের প্রজনন মৌসুম। এই সময় তারা অগভীর, আগাছাভরা পানিতে বিশেষ করে ধানক্ষেতে ডিম পাড়ে। ধানের শিকড় ও পচা পাতার নিচে ডিম নিরাপদে থাকে।
অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ মাগুর ডিমের পাশে পাহারা দেয়, যতক্ষণ না বাচ্চা ফোটে।
কৃষকের দৃষ্টিতে উপকারী প্রাণী
গ্রামাঞ্চলে অনেক কৃষক মাগুরকে উপকারী মাছ হিসেবে দেখেন। কারণ এটি ধানখেতে থাকা ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কেঁচো খেয়ে ফসলের কিছুটা উপকার করে। যদিও বড় মাগুর ছোট মাছও খেয়ে ফেলতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে এটি খেতের বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্ষার সঙ্গে মিশে থাকা এক জীবন
বর্ষা এলে মাঠে পানি জমে, খাল উপচে পড়ে, আর সেই সঙ্গে শুরু হয় মাগুর মাছের সক্রিয় জীবন। সারা বছর অপেক্ষার পর একটি ভারী বৃষ্টির রাতই তাদের জন্য নতুন জীবনচক্রের সূচনা করে খাওয়া, চলাচল এবং প্রজননের সুযোগ।
প্রকৃতির এই ছন্দই মাগুর মাছকে বর্ষার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করেছে, যেখানে পানি মানেই জীবন, আর বর্ষা মানেই নতুন যাত্রা।
আরটিভি/এসকে