সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ১১:১১ এএম
মহাকাশে মানুষের বসবাসের জন্য স্পেস স্টেশনের কথা অনেকেরই জানা। এবার পৃথিবীর সমুদ্রের গভীরেও শুরু হলো নতুন এক অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে সমুদ্রের তলদেশে চালু হয়েছে মানুষের তৈরি আধুনিক সাবসি হ্যাবিট্যাট ‘ভ্যানগার্ড’, যেখানে বিজ্ঞানীরা টানা কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত অবস্থান করে গবেষণা চালাতে পারবেন।
সমুদ্র প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান ডিপ নির্মিত এই পানির নিচের বাসস্থানটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা কিজ ন্যাশনাল মেরিন স্যাঙ্কচুয়ারির টেনেসি রিফে পানির প্রায় ১৭ মিটার গভীরে স্থাপন করা হয়েছে। স্থায়ী প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত ভ্যানগার্ডে একসঙ্গে চারজন ক্রু সদস্য থাকতে পারবেন।
ভ্যানগার্ডের অন্যতম প্রথম ক্রু সদস্য এবং নাসার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অ্যাকুয়ানট ডন কার্নাগিস বলেন, সমুদ্রের তলদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারায় বিজ্ঞানীরা আগের তুলনায় আরও নির্ভুল ও বাস্তবসম্মত গবেষণা পরিচালনা করতে পারবেন।
সাধারণত গভীর সমুদ্র থেকে নমুনা ওপরে তোলার সময় চাপের পরিবর্তনের কারণে তার আণবিক ও কোষীয় গঠনে পরিবর্তন ঘটে। ফলে প্রকৃত অবস্থা বিশ্লেষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু ভ্যানগার্ডে সমুদ্রের তলদেশের সমান চাপ বজায় রেখে রিয়েল-টাইমেই নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।
ভ্যানগার্ড মূলত একটি বড় ডিকম্প্রেশন চেম্বারের মতো কাজ করে। এখানে অবস্থানকারী গবেষকরা স্যাচুরেশন ডাইভার হিসেবে কাজ করবেন। ফলে প্রচলিত স্কুবা ডাইভিংয়ের ৬০ মিনিটের সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে তারা টানা কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে পানির নিচে কাজ করতে পারবেন। বিশেষ আম্বিলিক্যাল পাইপের মাধ্যমে তারা সরাসরি বাতাস নিয়ে হ্যাবিট্যাট থেকে বের হয়ে সমুদ্রের তলদেশে দীর্ঘ সময় গবেষণা পরিচালনা করতে পারবেন।
স্টেশনটির অন্যতম আকর্ষণ ‘মুন পুল’। এটি নিচের দিকে খোলা একটি প্রবেশপথ, যেখানে ভেতর ও বাইরের চাপ সমান থাকায় দরজা খোলা থাকলেও ভেতরে পানি প্রবেশ করে না। ফলে গবেষকরা হ্যাবিট্যাটের ভেতর থেকেই সরাসরি সমুদ্রে প্রবেশ করতে পারেন।
ভ্যানগার্ডের সঙ্গে ভূপৃষ্ঠের সংযোগ রক্ষা করতে একটি ভাসমান বয়ার মাধ্যমে বাতাস, বিদ্যুৎ এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংরক্ষণ ও নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও।
বর্তমানে এই সাবসি হ্যাবিট্যাট মূলত বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিপ জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে তারা ‘সেন্টিনেল’ নামে আরও উন্নত সাবসি হ্যাবিট্যাট চালু করতে চায়। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন মহীসোপানে স্বল্পমেয়াদি কিংবা স্থায়ীভাবে মানববসতি স্থাপনের পথ আরও সহজ হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের আশা, ভবিষ্যতে শুধু বিজ্ঞানী নন, শিল্পী, শিক্ষার্থী, ইতিহাসবিদ, শিক্ষাবিদ এমনকি নীতিনির্ধারকরাও সমুদ্রের তলদেশে অবস্থান করে সামুদ্রিক পরিবেশকে কাছ থেকে জানার সুযোগ পাবেন।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট
আরটিভি/এসকে