ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

অ্যান্টার্কটিকায় ২০০ বছরের পুরোনো দেহাবশেষ নিয়ে যা জানা গেল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ এএম
অ্যান্টার্কটিকা। ছবি: সংগৃহীত

বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকা আজ পৃথিবীর সবচেয়ে জনবিরল মহাদেশ। গবেষক ও অভিযাত্রী ছাড়া সেখানে মানুষের কোনো স্থায়ী বসতি নেই। তবে ১৯৮৫ সালে এই বরফাচ্ছন্ন মহাদেশে পাওয়া একটি মানবখুলি ইতিহাসবিদ ও বিজ্ঞানীদের সামনে তুলে ধরেছিল এক বিস্ময়কর রহস্য, যার সমাধান আজও মেলেনি।

১৯৮৫ সালের ৭ জানুয়ারি চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড্যানিয়েল তোরেস নাভারো অ্যান্টার্কটিকার ইয়ামানা সৈকতে গবেষণার সময় বালুর নিচে আংশিক চাপা পড়ে থাকা একটি মানবখুলি খুঁজে পান। খুলিটির পেছনের অংশ বাইরে থাকলেও সামনের অংশ বালুর নিচে চাপা ছিল। উদ্ধার করার পর দেখা যায়, ওপরের চোয়ালের কিছু অংশ ও কয়েকটি দাঁত অক্ষত রয়েছে, তবে নিচের চোয়াল ও সামনের দাঁতগুলো অনুপস্থিত।

পরবর্তী পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এটি কোনো বয়স্ক ব্যক্তির নয়; বরং একজন তরুণীর খুলি। রেডিওকার্বন ও রাসায়নিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়, ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছিল ১৮১৯ থেকে ১৮২৫ সালের মধ্যে। অর্থাৎ, অ্যান্টার্কটিকা আনুষ্ঠানিকভাবে আবিষ্কারের সময়কাল বা তারও আগে।

1611844564

ঐতিহাসিকভাবে ১৮২০ সালে রুশ অভিযাত্রী থাদিউস ভন বেলিংহসেনকে অ্যান্টার্কটিকা দেখার প্রথম নিশ্চিত নথিভুক্ত অভিযাত্রী হিসেবে ধরা হয়। ফলে প্রশ্ন ওঠে তরুণীটি কি তার আগেই অ্যান্টার্কটিকায় পৌঁছেছিলেন?

এই রহস্যের ব্যাখ্যায় গবেষকেরা কয়েকটি সম্ভাব্য তত্ত্ব তুলে ধরেছেন। একটি মতে, উনিশ শতকের শুরুতে সিল শিকারিদের কোনো অভিযানের সঙ্গে ওই তরুণী অ্যান্টার্কটিকার কাছাকাছি এলাকায় এসেছিলেন এবং কোনো কারণে সেখানে আটকা পড়েন।

আরও গ্রহণযোগ্য আরেকটি তত্ত্ব বলছে, সমুদ্রযাত্রার সময় তরুণীর মৃত্যু হলে সে সময়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাঁর মরদেহ সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পরে সমুদ্রস্রোত ও ঝড়ের প্রভাবে দেহটি অ্যান্টার্কটিকার উপকূলে এসে পৌঁছায়। সেখানে মৃতদেহভোজী পাখিরা দেহ ছিন্নভিন্ন করে ফেলায় খুলিসহ হাড়গুলো সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

খুলি উদ্ধারের পর একই এলাকায় একাধিকবার অনুসন্ধান চালিয়ে গবেষকেরা একটি ঊরুর হাড়ও উদ্ধার করেন। তাদের ধারণা, দেহের অন্যান্য হাড় এখনো সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন

ঘটনার প্রকৃত সত্য আজও অজানা। তরুণীটি জীবিত অবস্থায় অ্যান্টার্কটিকার মাটিতে পা রেখেছিলেন, নাকি মৃত্যুর পর তার দেহ সাগরের স্রোতে ভেসে সেখানে পৌঁছেছিল তার নিশ্চিত উত্তর মেলেনি। তবে এখন পর্যন্ত অ্যান্টার্কটিকায় পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীন মানবদেহাবশেষগুলোর অন্যতম হিসেবে এই আবিষ্কার ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

সূত্র: আইএফএল সায়েন্স

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
আরও পড়ুন
১৯৮০ সালে খুন হওয়া ব্যক্তির পরিচয় মিলল ৪০ বছর পর 
কাগজের বাক্স থেকে পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধার
অস্তিত্ব সংকটে অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইন
বরফের গভীরে মিলল হারিয়ে যাওয়া এক ‘পৃথিবী’!