images

ফিচার

কফি আবিষ্কারের নেপথ্যে যে মুসলিম অজপাল

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ , ১১:১৭ এএম

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি কফি। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ দিনের শুরু করেন এক কাপ কফি দিয়ে। তবে এই পানীয়ের আবিষ্কার নিয়ে রয়েছে একটি বহুল প্রচলিত কিংবদন্তি, যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ইথিওপিয়ার এক ছাগলপালক (অজপাল)।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রায় ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে আবিসিনিয়া (বর্তমান ইথিওপিয়া) অঞ্চলের ছাগলপালক কালদি লক্ষ্য করেন, তার ছাগলগুলো একটি অজানা গাছের লাল ফল খাওয়ার পর অস্বাভাবিকভাবে চঞ্চল হয়ে উঠছে। এমনকি রাতভর জেগে থাকছে, ঘুমাচ্ছে না।

বিষয়টি দেখে কৌতূহলী হয়ে কালদি নিজেও সেই ফলের স্বাদ নেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতেজ, প্রাণবন্ত ও কর্মক্ষম অনুভব করেন। পরে তিনি বিষয়টি কাছের একটি সুফি মঠের ধর্মগুরুকে জানান।

ধর্মগুরু ওই ফল দিয়ে পানীয় তৈরি করে দেখেন, এটি দীর্ঘ সময় জেগে থেকে রাতের ইবাদত ও ধ্যান করতে সহায়তা করে। এরপর মঠের অন্য সদস্যদের মধ্যেও পানীয়টি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে এর খবর আশপাশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে ইতিহাসবিদদের মতে, কালদির এই গল্পটি একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি হলেও এর ঐতিহাসিক সত্যতা নিশ্চিত নয়। ১৬৭১ সালে রোমে প্রকাশিত কফিবিষয়ক অন্যতম প্রাচীন গ্রন্থ De Saluberrima Potione Cahue Seu Cafe Nuncupata Discurscus-এ প্রথম এই কাহিনির উল্লেখ পাওয়া যায়।

ঐতিহাসিকভাবে কফি পান করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় ১৫শ শতকে ইয়েমেনের সুফি মঠগুলোতে। সে সময় ইথিওপিয়া থেকে কফির ফল ইয়েমেনে নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা এবং পরে সেখানেই এর চাষ শুরু হয়।

সুফি সাধকেরা দীর্ঘ সময় ইবাদত ও ধ্যানের সময় জেগে থাকার জন্য কফি পান করতেন। ইতিহাসবিদ আবদুল কাদির আল-জাজিরির বর্ণনায় জানা যায়, প্রতি সোমবার ও শুক্রবার রাতে বড় মাটির পাত্রে কফি প্রস্তুত করা হতো এবং ধর্মীয় আচার পালনের সময় তা সবার মধ্যে বিতরণ করা হতো।

আরও পড়ুন
AEROMA

সুগন্ধি যখন চিকিৎসায়, সৌরভেই যুগে যুগে বহমান থেকেছে অ্যারোমাথেরাপি

ইয়েমেন থেকে কফি প্রথমে মক্কা ও মদিনায়, পরে দামেস্ক, বাগদাদ, কায়রো এবং কনস্টান্টিনোপলে ছড়িয়ে পড়ে। ১৬শ শতকের মধ্যে মিসর, সিরিয়া ও ইস্তাম্বুলে গড়ে ওঠে অসংখ্য কফি হাউস, যা দ্রুতই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আড্ডাকেন্দ্রে পরিণত হয়।

পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা পেরিয়ে কফি ইউরোপে পৌঁছায়। সেখান থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে কফি শুধু একটি পানীয় নয়, বরং বৈশ্বিক সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আরটিভি/এমএইচজে