ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

সুগন্ধি যখন চিকিৎসায়, সৌরভেই যুগে যুগে বহমান থেকেছে অ্যারোমাথেরাপি

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
ছবি: কৃত্রিম বুুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা

মানুষের জীবনে সুগন্ধ শুধু সৌন্দর্য বা বিলাসিতার অনুষঙ্গ নয়। বরং চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার হাজার বছরের পুরোনো। ভারতীয় মহাকাব্য, গ্রিক পুরাণ, প্রাচীন মিশর, চীন থেকে শুরু করে আধুনিক ইউরোপ যুগে যুগে ভেষজ ও সুগন্ধি উপাদান ব্যবহার করে রোগ উপশমের নানা নজির পাওয়া যায়। আধুনিক চিকিৎসা জগতে এই পদ্ধতি পরিচিত অ্যারোমাথেরাপি নামে।

ইতিহাসে সুগন্ধি চিকিৎসার উল্লেখ

রামায়ণের যুদ্ধকাণ্ডে বর্ণিত আছে, ইন্দ্রজিতের শক্তিশেলের আঘাতে অচেতন হয়ে পড়া লক্ষ্মণকে সুস্থ করতে বৈদ্য সুষেণ গন্ধমাদন পর্বতের চারটি ভেষজ- মৃতসঞ্জীবনী, বিশল্যকরণী, সন্ধানকরণী ও সবর্ণকরণী সংগ্রহের পরামর্শ দেন। হনুমান পুরো পর্বতই বহন করে আনেন। কাহিনিতে বলা হয়, ওই ভেষজের তীব্র গন্ধেই লক্ষ্মণের জ্ঞান ফিরে আসে।

schedule_sessions_with

ঋগ্বেদ, চরক সংহিতা, সুশ্রুত সংহিতা এবং মহাভারতের বিরাট পর্বেও বিভিন্ন সুগন্ধি ভেষজ ও তেলের ব্যবহার উল্লেখ রয়েছে। দ্রৌপদী রানি সুদেষ্ণার জন্য সুগন্ধি তেল ও প্রসাধনী তৈরির দক্ষতার কথাও বলেছিলেন। প্রাচীন ভারতে এই বিদ্যাকে বলা হতো ‘গন্ধযুক্তি’।

আধুনিক অ্যারোমাথেরাপির সূচনা

১৯৩৭ সালে ফরাসি রসায়নবিদ রেনে-মরিস গাতেফোসে গবেষণাগারে দুর্ঘটনায় হাতে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পর ভুলবশত ল্যাভেন্ডার তেল ব্যবহার করেন। পরে তিনি দাবি করেন, এতে দ্রুত ক্ষত শুকিয়ে যায় ও ব্যথা কমে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি "অ্যারোমাথেরাপি" শব্দটির প্রচলন করেন।

পরবর্তীতে ফরাসি সার্জন জ্যঁ ভালনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আহত সৈন্যদের চিকিৎসায় এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে চিকিৎসা, রূপচর্চা ও ওয়েলনেস শিল্পে অ্যারোমাথেরাপির বিস্তার ঘটে।

prepare_essential_oils

বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতায় ব্যবহার

প্রাচীন মিশরে মৃতদেহ সংরক্ষণ, সৌন্দর্যচর্চা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সুগন্ধি ভেষজ ও তেল ব্যবহৃত হতো। ইতিহাসে মিশরের রানি ক্লিওপেট্রার সৌন্দর্যচর্চায় সুগন্ধি উপাদানের ব্যবহারের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

চীনেও কয়েক হাজার বছর আগে ধর্মীয় আচার, স্বাস্থ্য রক্ষা ও সৌন্দর্যচর্চায় সুগন্ধি ভেষজ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। আধুনিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় স্পা, ওয়েলনেস সেন্টার এবং পরিপূরক চিকিৎসা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে অ্যারোমাথেরাপি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

কীভাবে কাজ করে অ্যারোমাথেরাপি?

অ্যারোমাথেরাপিতে মূলত বিভিন্ন ফুল, পাতা, গাছের ছাল ও শিকড় থেকে পাতন প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করা এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা হয়।

young-woman-relaxing-spa-salon-enjoying-massage-with-oil-aromatherapy-atmosphere-lighted

এই তেল ব্যবহারের প্রধান পদ্ধতিগুলো হলো-

ঘ্রাণের মাধ্যমে (ইনহেলেশন)

ত্বকে মালিশ (ম্যাসাজ থেরাপি)

অ্যারোমা বাথ

প্রসাধনীতে ব্যবহার (কসমেটিক থেরাপি)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুগন্ধি অণু নাকের ওলফ্যাক্টরি রিসেপ্টরের মাধ্যমে মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে, যা আবেগ, স্মৃতি ও মানসিক প্রশান্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। এজন্য ল্যাভেন্ডার তেল শিথিলতা এনে দিতে এবং লেবুর সুগন্ধ ক্লান্তি কমাতে সহায়ক বলে অনেকে মনে করেন।

কোন কোন তেল বেশি ব্যবহৃত হয়?

অ্যারোমাথেরাপিতে বহুল ব্যবহৃত এসেনশিয়াল অয়েলের মধ্যে রয়েছে- ল্যাভেন্ডার, টি ট্রি অয়েল, রোজমেরি, পেপারমিন্ট,ইউক্যালিপটাস,রোজ অয়েল ও চন্দন তেল।

এসব তেল অত্যন্ত ঘন হওয়ায় সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা হয় না। সাধারণত নারকেল, অলিভ বা আমন্ড অয়েলের মতো ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়।

কী কী উপকারের দাবি করা হয়?

অ্যারোমাথেরাপি সমর্থকদের দাবি, এটি-

মানসিক চাপ কমাতে, ঘুমের সমস্যা উপশমে,পেশির ক্লান্তি দূর করতে, মাইগ্রেনের অস্বস্তি কমাতে, স্পা ও রূপচর্চায়, ত্বক ও চুলের পরিচর্যায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

কার্যকারিতা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক

তবে অ্যারোমাথেরাপির চিকিৎসাগত কার্যকারিতা নিয়ে এখনো বৈজ্ঞানিক মহলে মতভেদ রয়েছে। ভারতের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কৌশিক লাহিড়ী বলেন, অ্যারোমাথেরাপির মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তার মতে, সুগন্ধ মানুষের মন ভালো করতে বা আরাম দিতে সহায়ক হতে পারে, তবে এটিকে কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

essential_oils_enhance

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অ্যারোমাথেরাপি প্রয়োগের আগে অবশ্যই প্রশিক্ষিত চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কোনো অবস্থাতেই এটি প্রচলিত চিকিৎসার বিকল্প নয়; বরং প্রয়োজন হলে সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
সমু চৌধুরীর চিকিৎসায় এগিয়ে এলো অভিনয়শিল্পী সংঘ
এবার ব্রণের চিকিৎসায় টুথপেস্ট, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
পাবিপ্রবিতে নেই স্বাস্থ্যবিমা, চিকিৎসা ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি
বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য চীনে ‘বিশেষ চিকিৎসাসেবা’