images

আন্তর্জাতিক / ফিচার

৩ হাজার বছর আগের মৃত্যুর বইয়ে যা লেখা ছিল

বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ , ১০:৩৪ পিএম

মৃত্যু! এই শব্দটা শুনলেই যেখানে আমাদের মনে ভয় আর কৌতূহলের এক শীতল স্রোত বয়ে যায়, ঠিক সেখানে তিন হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরীয়রা দেখতেন এক ভিন্ন চিত্র। তাদের কাছে মৃত্যু মানে কোনো শেষ নয়, বরং নতুন এক জগতে প্রবেশের সূচনা। আর সেই অদৃশ্য পরলোকে নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর জন্যই মিশরীয় লেখকরা লিখে রেখেছিলেন এক বিস্ময়কর পথনির্দেশিকা। প্যাপিরাস গাছের ছালে লেখা সেই পুঁথিতে থাকত মন্ত্র, প্রার্থনা আর এমন সব নির্দেশনা—যা মৃত আত্মাকে শেখাত, কীভাবে দেবতাদের সামনে গিয়ে কথা বলতে হবে, কীভাবে পেরোতে হবে পরলোকের বিপদসংকুল পথ।

সেই মহামূল্যবান বইটির নাম ছিল বুক অভ দ্য ডেড। শত শত হায়ারোগ্লিফিক মন্ত্র ও প্রার্থনায় ঠাসা এই বইটি আত্মাকে শেখাত কীভাবে দেবতাদের সন্তুষ্ট করে চিরস্থায়ী শান্তি ও অমরত্ব লাভ করা যায়। মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল, এই মন্ত্রগুলোর সাহায্যে আত্মা এমন এক শান্তির জগতে পৌঁছাবে, যেখানে মৃত্যু বা কষ্টের কোনো স্থান নেই, আর একবার সেখানে পৌঁছালে আত্মা বেঁচে থাকবে চিরকাল।

আরও পড়ুন
11

ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ঠিক এই বিশ্বাস থেকেই প্রাচীন মিশরের প্রতিটি মানুষ নিজেদের পরলোকযাত্রার জন্য একটি করে আলাদা কপি তৈরি করতে চেয়েছিলেন, জন্ম হয়েছিল এমন শত শত বুক অভ দ্য ডেড-এর। তবে লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামের সংগ্রহে থাকা এই প্যাপিরাসটিই সবচেয়ে বড় এবং সম্পূর্ণ সংস্করণ। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৭ মিটার, যেখানে ৯৬টি প্যানেলে অসংখ্য প্রাচীন চিত্র সহ মন্ত্রগুলি যেন মৃত্যুর পরের জগতে যাওয়ার এক বিস্তারিত মানচিত্র তুলে ধরেছে।

অবাক করা বিষয় হলো, প্রায় ১০৫ বছর আগে, ১৯২০ সালের দিকে, এক ব্রিটিশ অনুসন্ধানকারী এটি খুঁজে পান থিবসের এক পুরোহিতের কন্যার সমাধি থেকে। ধারণা করা হয়, এটি প্রায় তিন হাজার বছর আগের এক অমূল্য নিদর্শন। আবিষ্কারের পর থেকেই এটি সংরক্ষিত আছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের বিশেষ ভল্টে, যেখানে আলো ও বাতাসের সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা হয়েছে আজও।

মিউজিয়ামের কিউরেটর জন টেলর জানান, মিশরীয়রা মৃত্যুর এই ধারণা থেকেই দেহ সংরক্ষণের জন্য তৈরি করেছিল মমি, গড়ে তুলেছিল সুবিশাল পিরামিড, আর সমাধির সঙ্গে রাখত তাবিজ, অলংকার এমনকি খাবারও। যেন মৃত আত্মা প্রতিদিন ফিরে এসে অনুভব করতে পারে জীবনের স্পন্দন। আর দীর্ঘদিন ধরে ভল্টের অন্ধকারে সযত্নে সংরক্ষণের পর, ২০১০ সালে যখন এই প্যাপিরাসটি প্রথমবার জনসাধারণের সামনে প্রদর্শিত হয়, তখন মনে হয়েছিল যেন, তিন হাজার বছর পর সেই রহস্যময় মানচিত্র আবার আলোয় ফিরলো।

আরটিভি/এআর