শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ , ১০:২৬ পিএম
Failed to load the video
নিউইয়র্কের রাজনীতিতে এখন চলছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রভাবশালী রাজনীতিক অ্যান্ড্রু কুমোর মতো ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন জোহরান মামদানি, এক তরুণ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীর সন্তান। কিন্তু এই বিজয়ের নেপথ্যে ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী জারা রহিম, যিনি মামদানির পুরো প্রচার অভিযানের মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করেছেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি জোহরানের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফরচুন সাময়িকীর প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নবনির্বাচিত মেয়রের উপদেষ্টা জারার মূল পরামর্শটি জানান: ‘রাজনৈতিক কৌশলবিদদের বানানো কল্পিত নিউইয়র্ককে ভুলে যাও, প্রকৃত নিউইয়র্ক নগর নিয়ে প্রচার চালাও।’ জারার এই পরামর্শেই শুরু হয় এক তৃণমূল আন্দোলন।
জারার কৌশল বাস্তবায়নে ৯০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক রাস্তায় নেমেছিলেন। তারা সেসব ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যারা এতদিন নিউইয়র্ক নগরের রাজনীতিকে উপেক্ষা করতেন। মেট্রোর ভিড়ে, দোকানের বারান্দায়, মসজিদ ও চার্চের সামনে—সবখানে দেখা যেত জোহরান ও জারা রহিমকে, যারা নিউইয়র্কের মুসলিম, আফ্রিকান, হিস্পানিক ও বাংলাদেশিদের নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছিলেন।
৩৫ বছর বয়সী জারা রহিম ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি ও গল্প বলার কৌশলকে রাজনীতিতে দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন। সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিউনিকেশনস পড়ার সময় থেকেই তিনি প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের মনে পৌঁছানোর শিল্প রপ্ত করেন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার নির্বাচনী প্রচারে ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দেওয়া সেই মেয়েটি দ্রুতই ডিজিটাল কনটেন্ট ডিরেক্টর হয়ে ওঠেন। ওবামার পর তিনি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবার, হিলারি ক্লিনটনের প্রচার টিম এবং ভোগ সাময়িকীতেও যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি এ২৪, মারায়া কেরি এবং নেটফ্লিক্সের সঙ্গে যোগাযোগ পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।
জোহরানের প্রচারে জারা ডিজিটাল দুনিয়া আর মাঠের বাস্তবতাকে একসঙ্গে করে যোগাযোগের সংস্কৃতি তৈরি করেন। যখন প্রতিপক্ষ কুমো, মামদানিকে ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করেন, জারা শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে প্রতিক্রিয়া জানান যে এই কৌশল আসলে ভয় আর অজ্ঞতার প্রকাশ।
বর্তমানে জোহরান মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত, আর তার পাশে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন জারা রহিম। তার এই যাত্রা প্রমাণ করে, মানুষের অনুভব বোঝার শিল্পই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র।
আরটিভি/ এআর