শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫ , ১০:২৪ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মী ও গবেষক আনতে বিশেষ মার্কিন ভিসা প্রকল্প এইচ-১বি ভিসা বাতিল করার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত একটি বিল যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) উত্থাপন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ অভিবাসন নীতিতে আরও কড়াকড়ির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কট্টর ডানপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী প্রতিনিধি মার্জোরি টেইলর গ্রিন এই বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি পাস হলে এইচ-১বি ভিসা বাতিল হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশলী, ম্যানুফ্যাকচারিংসহ সব খাতে মার্কিনীরা অগ্রাধিকার পাবে বলে তিনি দাবি করেন।
এইচ-১বি ভিসা হলো এমন একটি বিশেষ কর্মসূচি, যার আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রতি বছর ৮৫ হাজার দক্ষ বিদেশি কর্মীকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে থাকে। অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল, গুগল প্রভৃতি কোম্পানিগুলো এই ভিসা কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী এবং এই ভিসায় সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে ভারত।
বিলটি উত্থাপনের আগে মার্জোরি গ্রিন অভিযোগ করেন, প্রতারণা ও অপব্যবহারে পরিপূর্ণ এই ভিসার কারণে দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, এই ভিসার সুযোগ নিয়ে এতদিন বড় বড় টেক এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স জায়ান্ট কোম্পানি, হাসাপাতাল ও বিভিন্ন শিল্পকারখানা আমাদের নাগরিকদের বঞ্চিত করে বিদেশিদের চাকরি দিয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন গত সেপ্টেম্বরে এই ভিসার ফি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে। নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোকে এতদিন প্রতি বছর ১ হাজার ৫০০ ডলার ফি দিতে হলেও, তা বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করা হয়।
গ্রিন তার বিলে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ পুরোপুরি বাতিল না করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথা বলেছেন। বিলে বলা হয়েছে, মার্কিন স্বাস্থ্যখাতে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ১০ হাজার বিদেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নেওয়া হবে। তবে এতদিন এইচ-১বি ভিসাধারীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি এবং পরবর্তীকালে নাগরিকত্ব প্রাপ্তির যে সুযোগ ছিল, সেটি থাকবে না।
আরটিভি/এআর