শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫ , ০৪:৫৯ পিএম
অনলাইনে পরিচিত এক নারীর প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের প্রতিশোধ নিতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) সার্জেন্ট আতিকুল ইসলাম। তিনি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওই নারী ও তার পরিবারকে হয়রানি শুরু করেন। এই ঘটনায় আতিকুল ইসলাম পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ব্রুকলিন ফেডারেল কোর্টের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২৯ বছর বয়সী সার্জেন্ট আতিকুল ইসলাম, নিজেকে জেমস ডব্লিউ অ্যান্ডারসন নামে পরিচয় দেন। নিজেকে নিউইয়র্কে আইসিই ফিল্ড অফিসের পরিচালক দাবি করে গত ২৯ মার্চ তিনি ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির একটি আইসিই কেন্দ্রে রিপোর্ট করতে বলেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, অনলাইনে বন্ধুত্ব হওয়ার পর ওই নারী আতিকের প্রতি আগ্রহ না দেখালে তিনি প্রতিশোধ নিতে এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার শুরু করেন। কুইন্স এলাকায় ঘটনাটি ঘটার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। এনওয়াইপিডির অভ্যন্তরীণ তদন্ত শাখা বিষয়টি তদন্ত করে এবং পরে ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে জানায়।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) আতিকুল ইসলামকে ব্রুকলিন ফেডারেল কোর্টে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পরিচয় ভুয়া দাবি করার একক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
আতিকুল ইসলাম ২০১৮ সালে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং ২০২৩ সালে সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পান। মঙ্গলবার আদালত জানায়, তাকে ৩০ দিনের জন্য বেতন ছাড়া বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্তই থাকবেন।
বিচারক ট্যারিন মেরকলের নির্দেশে আতিককে ২৫ হাজার ডলার বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে তাকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
আতিক আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং তার আইনজীবী জন আরলিয়া জানিয়েছেন, তিনি দৃঢ়ভাবে অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়বেন।
উল্লেখ্য, এফবিআই সম্প্রতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে যে আইসিই পরিচয়ে অপরাধ বাড়ছে। এই বছর অন্তত পাঁচটি ঘটনায় অপরাধীরা ভুয়া আইসিই পরিচয় দিয়ে হামলা, ডাকাতি ও ধর্ষণের চেষ্টায় জড়িত হয়েছে।
আরটিভি/এআর