রোববার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:৫০ পিএম
আইনত বিবাহিত থাকা সত্ত্বেও স্বামী তাকে করাচিতে ফেলে রেখে গোপনে ভারতের দিল্লিতে দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচার চেয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আবেদন করেছেন এক পাকিস্তানি নারী। নিকিতা নাগদেব নামে পরিচিত এই নারীর আবেদনটি ভারত ও পাকিস্তানের সামাজিক এবং আইনি সংস্থাগুলোর মধ্যে বড় ধরনের ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
করাচির বাসিন্দা নিকিতা অভিযোগ করেছেন, তিনি ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি বিক্রম নাগদেবকে হিন্দু প্রথা মেনে বিয়ে করেছিলেন। বিক্রম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ভিসায় ভারতের ইন্দোরে বাস করতেন। বিয়ের এক মাস পর ভারতে এলেও, ২০২০ সালের ৯ জুলাই বিক্রম তাকে ‘ভিসার কারিগরি ত্রুটির’ অজুহাতে আটারি সীমান্তে ঠেলে দেন এবং জোর করে পাকিস্তানে ফেরত পাঠান। নিকিতার দাবি, তারপর থেকে স্বামী তাকে ফিরিয়ে আনার কোনো চেষ্টাই করেননি।
এদিকে করাচিতে ফিরে আসার পরই নিকিতা জানতে পারেন, তার স্বামী বিক্রম দিল্লিতে অন্য এক নারীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্বামীর এই প্রতারণায় বিপর্যস্ত হয়ে নিকিতা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছেন। তার আবেগপূর্ণ বার্তায় তিনি বলেন, ভারতের প্রত্যেক নারীর ন্যায়বিচার প্রাপ্য।
নিকিতা আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের পরপরই তাকে শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার স্বামী তার এক আত্মীয়ার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।
নিকিতার এই অভিযোগের ভিত্তিতে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট কর্তৃক অনুমোদিত সিন্ধি পঞ্চ মধ্যস্থতা ও আইনি পরামর্শ কেন্দ্রের সামনে মামলাটি আসে। মধ্যস্থতা ব্যর্থ হওয়ার পর, কেন্দ্রের রিপোর্টে বলা হয় যে যেহেতু স্বামী বা স্ত্রী কেউই ভারতীয় নাগরিক নন, তাই বিষয়টি পাকিস্তানের এখতিয়ারভুক্ত।
তবে, আইনত বিবাহিত অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র বিক্রমকে পাকিস্তানে নির্বাসিত করার সুপারিশ করেছে। ইন্দোর সমাজ পঞ্চায়েতও একই সুপারিশ করেছে। বর্তমানে ইন্দোরের কালেক্টর আশীষ সিং নিশ্চিত করেছেন যে এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরটিভি/এআর