মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৭:৫০ পিএম
স্থানীয় এক আদিবাসী নারীকে হত্যার অভিযোগ তুলে ভারতের বিজেপি শাসিত ওড়িশার মালকানগিরিতে বাঙালিদের একটি গোটা গ্রামে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। কুড়াল, তলোয়ার ও তীর ধনুক হাতে আসা প্রায় পাঁচ হাজার আদিবাসীর তাণ্ডবে এমভি-২৬ গ্রামের ৬০টিরও বেশি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন বাঙালি বাসিন্দারা। খবর এবিপি আনন্দের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলা সদর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরের প্রত্যন্ত মালকানগিরির এমভি-২৬ গ্রামে গত রোববার(৭ ডিসেম্বর) এই হামলার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার ঘটনাটি সর্বভারতীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রোববার, যখন স্থানীয় পোতেরু নদী থেকে রাখেলগুড়া গ্রামের বাসিন্দা পদিয়ামি (৫৫) নামের এক আদিবাসী নারীর মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। সেই নদীর পাশেই জমি রয়েছে বাঙালি কৃষক সুকুমার মণ্ডলের। আদিবাসীদের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত পুরোনো মনোমালিন্যের জেরে সুকুমার ও তার পরিচিতরা পদিয়ামিকে অপহরণ করে খুন করেছেন। যদিও সুকুমার মণ্ডল এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
হামলার শিকার এমভি-২৬ গ্রামের বাসিন্দা সত্যজিৎ হালদার বলেন, হাজার হাজার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ যখন হামলা চালায় এবং ৬০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, তখন মনে হচ্ছিল আর প্রাণে বাঁচবে না কেউই।
রোববারের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মালকানগিরিতে পুলিশ ও বিএসএফ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে সোমবার পুলিশের সামনেই বাঙালি গ্রামে ঢুকে আবারো বাড়িতে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে আদিবাসীরা। সে সময় পুলিশ কার্যত নিশ্চুপ ছিল এবং নীরব দর্শকদের ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ করেন গ্রামবাসী।
মালকানগিরির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিনোদ পাটিল জানিয়েছেন, অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আদিবাসী নারীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শুভরঞ্জন মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য গোটা এলাকায় দমকল বাহিনী, পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য গ্রামের ১০ কিলোমিটার বৃত্তে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় ওড়িশার সরকার মালকানগিরি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে।
আরটিভি/এআর