শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:২৩ পিএম
ভারতের বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের হাতে এক মুসলিম নারী চিকিৎসক হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। ওই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা চিকিৎসক নুসরাত পারভীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে যোগ দেননি।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ছিল তার কাজে যোগ দেওয়ার শেষ দিন। তবে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থিত হননি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানায়, গত ১৫ ডিসেম্বর বিহারে নবনিযুক্ত আয়ুষ চিকিৎসকদের (আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথিক ও ইউনানি) নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। নিয়োগপত্র নিতে মঞ্চে এগিয়ে গেলে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার নুসরাত পারভীনের হিজাব টেনে নামিয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সময় তিনি নীতিশ কুমারের হাত থেকেই নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন।
নুসরাত পারভীন পাটনার সরকারি তিব্বি কলেজ ও হাসপাতালের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। তার এক বন্ধুর বরাতে জানা গেছে, পাটনা সদর এলাকার সাবলপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তার যোগ দেওয়ার কথা ছিল। এর আগে জেলা সিভিল সার্জন অবিনাশ কুমার সিংয়ের কাছে রিপোর্ট করার নির্দেশ ছিল।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন অবিনাশ কুমার সিং বলেন, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ছিল কাজে যোগ দেওয়ার শেষ সময়। কিন্তু তিনি আসেননি। তবে স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমতি পেলে পরে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
ঘটনার পর থেকেই রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সমাজের নানা শ্রেণির মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর আচরণের তীব্র সমালোচনা করছেন। বিশিষ্ট গীতিকার ও কবি জাভেদ আখতার এ ঘটনায় নীতিশ কুমারকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেছেন।
তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্তব্য করে বিতর্ক আরও উসকে দেন। তিনি বলেন, ওই নারী চাইলে চাকরি না-ও নিতে পারেন অথবা নরকে যেতে পারেন।
এদিকে ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরফান আনসারি এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি নুসরাত পারভীনকে মাসিক ৩ লাখ রুপি বেতনে ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির প্রস্তাব দিয়েছেন।
আনসারি বলেন, বিহারে নারী চিকিৎসক ডা. নুসরাত পারভীনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অমানবিক ও লজ্জাজনক ঘটনা পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছে। হিজাব টেনে নামানো শুধু একজন নারীকে অপমান নয়, এটি সংবিধান ও মানবতাকেও অপমান।
তিনি আরও বলেন, ঝাড়খণ্ডে আমরা নারী ও চিকিৎসকদের সম্মানের প্রশ্নে কোনো আপস করি না। আমরা তাকে পছন্দের পোস্টিং, পূর্ণ নিরাপত্তা ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ দিতে প্রস্তুত।
ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ ঘটনার জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করেন এবং ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
আরটিভি/এসকে